বাবু পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, টাকা নিয়ে তাঁতীলীগের কমিটিতে জামায়াত কর্মী!

তাঁতী লীগ

প্রজন্ম রিপোর্ট

রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে দলবদল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। নীতি-আদর্শের কথা ভুলে ফায়দা লুটতে অতীতে অনেকেই যোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলে। এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া বর্তমানে অনেকটা পাল্টে গেছে।

বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় নিজ দল ছেড়ে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়া হচ্ছে তাকে আর দলবদল বলা যায় না। বলা যায়, অনুপ্রবেশ। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠনের অসৎ কিছু নেতাদের হাত ধরে ও টাকার বিণিময়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতা কর্মীরা ঢুকে পড়ছে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কমিটিতে।

সম্প্রতি এমন বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে যশোর জেলা তাঁতী লীগের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে জামায়াত কর্মীকে তাঁতীলীগ কর্মী প্রত্যায়নপত্র দেওয়া, যশোর শহর কমিটি ও সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াত কর্মী ও জামায়াত পরিবারের সদস্যদেরকে তাঁতীলীগের বিভিন্ন পদ পদবী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই কমিটির আহবায়ক গৌরাঙ্গ পাল বাবু’র বিরুদ্ধে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটকৃতদেরকে তাঁতীলীগের প্রত্যায়নপত্র দেন এই বাবু পাল।

আটককৃতরা নিজেদের জামিন করাবার জন্য এই বাবু পালকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে নিজেদের নামে তাঁতীলীগ সদস্য হওয়ার প্রত্যায়ন পত্র নেন। যশোরের একটি ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বাঘারপাড়া এলাকার মাহমুদ নাশকতার পরিকল্পনাকারী হিসেবে পুলিশের হাতে আটক হন। এরপর এই গৌরাঙ্গ পাল বাবু নগদ ১লক্ষ টাকার বিণিময়ে জামায়াত কর্মী মাহমুদকে তাঁতীলীগের একটি সদস্য প্রত্যয়নপত্র প্রদান করে যশোর আদালত থেকে তাকে জামিন করান। এরপর গত ১৪/০২/২০১৯ ইং তারিখে গৌরাঙ্গ পাল বাবু টাকার বিণিময়ে যশোর শহরে একটি আহবায়ক কমিটি করেন।

এই কমিটি গঠন কেন্দ্র করে তার সাথে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয় বাকী নেতাদের মধ্যে। সম্প্রতি যশোর সদরের কঁচুয়া ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়ন তাঁতীলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই কমিটিতে জামাত-শিবিরে বেশ কিছু কর্মী ও জামায়াত পরিবারের সদস্যদের পদ দেওয়ায় হতবাক হয়েছে অত্র ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী, প্রবীন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাক্তিত্বরা।

যেই মানুষগুলো এক সময় দেশকে অস্থির করতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা থেকে শুরু করে নাশকতাসহ অসংখ্য লুটপাট এর অভিযোগ রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে তারা আজ কিভাবে টাকার বিণিময়ে ঢুকে পড়ছে আওয়ামীলীগের ছায়াতলে। কঁচুয়া ইউনিয়ন তাঁতীলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে সালমান হোসেন ও বিপুল হোসেনসহ বেশকিছু বিতর্কিতদের কমিটিতে সদস্য বানানোর কারণে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী আরও জানান এই কমিটির অনেকেই আছেন যারা সরাসরি মাদকের সাথে যুক্ত। বিষয়টির সত্যতা জানবার জন্য কমিটির আহবায়ক জাকির হোসেনের কাছে তার মোবাইল (০১৭৩৮৭৯১৭১৮) নং এ কল করা হলে তিনি বলেন,

এই দুইজন ব্যাক্তির সম্পর্কে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, এদের পরিবার বা এরা নিজেরা সরাসরি জামায়াত- শিবির এর সাথে জড়িত কিনা তা আমার সঠিক জানা নেই। তবে এর সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে। এ সকল ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোর কোতয়ালী থানার দারোগা ইকবালের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয় গৌরাঙ্গ পাল বাবু’র কর্মচারী সজীব।

সজীবের স্বীকারক্তিতে পরর্তিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতার করা হয় স্বয়ং গৌরাঙ্গ পাল বাবুকে। শোনা যায়, তার কাছে ইয়াবা পেয়েও ঘুষের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও বাবু পালের বিরুদ্ধে বাজারের ঝালাইপট্টি বাবু বাজার এলাকায় রানু নামের এক মহিলার বাড়ির একটি ফ্লাট দীর্ঘদিন যাবৎ দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে যশোর সদর ফাঁড়ি’র ইন্সপেক্টর ফিরোজ তাকে একাধীকবার সর্তক করেন এবং ঐ দখলকৃত ফ্লাটটি ছেড়ে দিতে বলেন,এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বেজপাড়া এলাকায় ও বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগও রয়েছে।

সে বিভিন্ন সময় শহরের কিছু নেতাদের নাম ভাঙিয়ে আর তাঁতীলীগের আহবায়ক পরিচয় ব্যবহার করে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে তার কুকর্ম। ইতিমধ্যে তার এবং তার সাথে এই সকল কুকর্মে জড়িতদের ব্যাপারে পত্রিকা দপ্তরে অনেক অভিযোগও এসেছে। পরবর্তিতে এগুলো যাচাই বাছাই করে তা পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য