বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন এমপি ইসমাত আরা সাদেক

প্রজন্ম ডেস্ক

 মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছায় জানিয়েছিলেন বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করতে। সে ইচ্ছানুযায়ী বগুড়ায় বাবার কবরের পাশেই চিরশায়িত হলেন সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল ৩ টায় তার মরদেহ হেলিকপ্টারে বগুড়ায় আনা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আসর নামাজের পর বগুড়ার ঐহিত্যবাড়ী সাতানি বাড়ীর মসজিদ চত্বরে জানাজা শেষে বাবা পুটু মিয়ার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত ইসমাত আরা সাদেকের ছেলে ড. তানভির সাদেক, চাচাতো ভাই শাহনেওয়াজ রহমান, জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মেদ, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু, জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশিষ পোদ্দার লিটন প্রমূখ।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী প্রয়াত এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনিই প্রথম যশোর থেকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য হন। বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রথমে গণশিক্ষা ও পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবারও যশোর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

ইসমাত আরা সাদেক ১৯৪২ সালের ১২ ডিসেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে বগুড়া ভিএম গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ও ১৯৫৮ সালে ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে স্নাতক করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ও তার স্বামী এএসএইচকে সাদেক আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

১৯৯৬ সালে তিনি কেশবপুর মহিলা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তখন থেকে তিনি যশোর জেলার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মন্তব্য