ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে রাস্তায় মা

প্রজন্ম ডেস্ক

একমাত্র ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে রাস্তায় নেমেছেন এক মা। ছেলের ছবি সম্বলিত পোস্টার বুকে জড়িয়ে বিলাপ করতে করতে নির্মম এ হত্যাকণ্ডের বিচার দাবি করেছেন মা বাছিয়া পারভীন।

গত ২ জানুয়ারি একদল দুর্বৃত্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সরকারপাড়া এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে মাহফুজুর রহমান রিমনকে (২৪) ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত হরে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিমন।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রিমন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছেলের ছবি সম্বলিত পোস্টার বুকে জড়িয়ে বিলাপ করে ছেলে হত্যা বিচার চান মা বাছিয়া পারভীন। এ কর্মসূচিতে সরকারপাড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরীফ ভান্ডারী, নিহত রিমনের বোন বিউটি বেগম, ছাত্রলীগ নেতা জিদনী ইসলাম, আয়াত আলী সরদার, শামছু মিয়া, জসিম সরকার, আবদুল আজিজ অনিক ও মোবারক মিয়া প্রমুখ।

এ সময় রিমন হত্যায় জড়িত কোনো আসামিকে ধরতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, বিনা অপরাধে দিনদুপুরে রিমনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনো আসামিকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। অবিলম্বে রিমন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পরে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। তারা বিক্ষোভ মিছিল থেকে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর শহরের বেপারীপাড়া এলাকার জনৈক মোবারক মিয়ার বাড়ির সামনে একদল দুর্বৃত্ত রিমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে ৮ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিমন। এ ঘটনায় শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে খেলু মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন রিমনের মা বাছিয়া পারভীন।

মন্তব্য