এটি থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় একটি ডিশের প্রাথমিক ধাপ

প্রজন্ম ডেস্ক

তারা সংখ্যায় আটজন। সামনে প্লাস্টিকের ঝুড়ি। সেই ঝুড়িতে রাখা মুরগির পা। এ মুরগির পাগুলো মুখে নিয়ে চামড়া ছিলে চলেছেন তারা। দেখে মনে হবে যেন তারা মুখ দিয়ে মুরগির পা পরিষ্কার করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। মুরগির নোংরা পা এভাবে পরিষ্কার করার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে থাইল্যান্ডে। মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর নং খাইয়ে পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ দৃশ্য ধারণ করেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজের ব্যক্তিরা হাঁস-মুরগি প্রক্রিয়াজাতকারী একটি কারখানার শ্রমিক। তারা চামড়া ছাড়ানোর আধুনিক কোনো যন্ত্র ছাড়াই এভাবে চামড়া পরিষ্কার করছিলেন। পরে সেগুলো খোলা বাজারে বিক্রি করা হতো।

গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কারখানার ভেতরে সারিবদ্ধভাবে বসে দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে মুরগির পায়ের চামড়া পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা।

জানা গেছে, কারখানাটি ৩১ বছরের পুরোনো। শ্রমিকরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানান, কারখানার বসের নির্দেশেই তারা এ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। কেননা প্লাস দিয়ে চামড়া ওঠাতে এ তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ সময় বেশি লেগে যায়। সময় বাঁচিয়ে বেশি সংখ্যক পা পরিষ্কার করতে তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রাদেশিক গভর্নর রোন্নাচাই জিৎউইসেত বলেছেন, ‘আমরা কারখানা ঘুরে দেখেছি এবং তা বেশ সুসংগঠিত ও পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে। তবে তাদের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি বদলাতে হবে। কেননা তারা যে পদ্ধতিতে পা পরিষ্কার করছেন, তাতে জীবাণু সহজেই মুখে প্রবেশ করতে পারে। এটা কারখানার শ্রমিক ও ক্রেতা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ এসব পায়ে অসংখ্য জীবাণু থাকে।’

দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের দন্ত বিশেষজ্ঞ ওয়াচ্যারাপং হোমউথ্যিঅং বলেছেন, ‘শ্রমিকরা যে পদ্ধতিতে এসব পা পরিষ্কার করছেন তা তাদের বিপজ্জনক হতে পারে। লালার মাধ্যমে পায়ে থাকা জীবাণু শ্রমিকের এবং শ্রমিকের মাধ্যমে ক্রেতার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে শ্রমিক ও ক্রেতাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পস এমনকি হেপাটাইটিস এ ও বি-তে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাঁস-মুরগির পা থাইল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় খাবার। তবে জনপ্রিয় এ খাবারের প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় অন্যান্য কারখানাগুলোতে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

চীনে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১৩ জন। আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮৭ জন।

দেশটির গবেষকরা বলছেন, একটি সাপের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। আবার অনেকে বলছেন, যে সাপের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, সেই সাপটি ভাইরাসে আক্রান্ত একটি বাদুর খেয়েছিল।

এমন অবস্থায় থাইল্যান্ডে অস্বাস্থ্যকর এ পদ্ধতিতে মুরগির পা পরিষ্কারকরণ নতুন কোনো বিপদ ডেকে আনে কি না, তা ভাববার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য