সাংবাদিক পিটিয়ে সাংবাদিকের জিম্মায় এনামুল-রূপনের জামিন

প্রজন্ম ডেস্ক

ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক পেটানোর মামলায় ক্যাসিনো কাণ্ডের অন্যতম হোতা দুইভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক ওরফে এনু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়ার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

উভয় পক্ষের আপস-মীমাংসা শর্তে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মিল্লাত হোসেন ৫০০ টাকা মুচলেকায় বাদীর (সাংবাদিক) জিম্মায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য আরও মামলা থাকায় এখনই জামিনে মুক্ত হতে পারছেন না।

কোতয়ালী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকার মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসির ক্যামেরাপারসন আলামিনকে পেটানোর মামলায় ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, আজ (সোমবার) দিন তাদের সাতদিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। এছাড়াও মামলার বাদী ডিবিসি টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার লিটন মাহমুদ আদালতে হলফনামা দিয়ে বলেন যে, আসামিরা জামিন পেলে তার কোনো আপত্তি নেই। আদালত শুনানি শেষে বাদীর জিম্মায় আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আলম এ মামলায় আসামিদের গ্রেফতার দেখানোসহ সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ২৬ জানুয়ারি আসামিদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সাথে তাদের সাতদিনের রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপনকে দুদকের মামলায় রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য গত ১৯ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালতে নেয়া হয়। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির ক্যামেরাপারসন আল আমিন ওই দৃশ্য ধারণ করছিলেন। এ সময় রূপন ও এনুর নির্দেশে আট-দশজন সমর্থক আল আমিনের ওপরে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা আল আমিনের পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করে। আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত পুলিশ হামলাকারীদের মধ্যে মো. মতিন নামের একজনকে আটক করে। ওই ঘটনায় ডিবিসির স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন ওরফে লিটন মাহমুদ কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হওয়া মো. মতিন গত ২৩ জানুয়ারি জামিন পেয়েছেন।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। কেরানীগঞ্জে মোস্তফার বাড়িতে থেকে বেনামি পাসপোর্ট তৈরি করে ভারত হয়ে নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন এনামুল ও রূপন।

দুইজনকে গ্রেফতারের পর সিআইডি জানায়, তারা দুইভাই দেশে ক্যাসিনো কারবার চালুর পেছনের হোতা। নেপালিদের মাধ্যমে দুইভাই বিদেশ থেকে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম নিয়ে আসতেন। তারপর তা ছড়িয়ে দেয়া হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এ কারবারে দুইভাই ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনে যান।

তাদের দু’জনের মোট ২২ জায়গায় জমি ও বাড়ি রয়েছে, যার অধিকাংশই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক। এছাড়া সারাদেশে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ৯১টি অ্যাকাউন্টে তাদের মোট ১৯ কোটি টাকা জমা আছে। ব্যক্তিগত পাঁচটি গাড়িও রয়েছে দুই ভাইয়ের। সেপ্টেম্বরে দু’জনের বাড়িতে অভিযানের সময় পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছিল। জানা যায়, সেগুলো ব্ল্যাকমানি (কালো টাকা) ছিল। দেশের বাইরে পাচার করতে তারা সেগুলো রেখেছিলেন।

মন্তব্য