ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিএন‌পি নেতার হা‌তে তু‌লে দি‌লেন ওসি!

প্রজন্ম ডেস্ক

রংপুরের হারাগাছ থানা পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আটক শিক্ষককে দুই বিএনপি নেতার হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে।

রোববার মধ্যরাতে হারাগাছ ইউপি কার্যালয়ে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রকাশ্য বিচার বসালেও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তা ভেস্তে যায়।

অভিযোগ ওঠে, হারাগাছ থানার ওসি আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে শনিবার মধ্যরাতে আটক শিক্ষককে বিএনপি দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরের হাতে তাদের তুলে দেন।

জানা যায়, শনিবার দুপুরে কৌশলে ওই ছাত্রীকে চোরমারা বটেরতল নামক স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় প্রাইভেট শিক্ষক সোহেল রানা। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই কলেজ ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে অভিভাবকসহ উপস্থিত হয়।

পরে কলেজ ছাত্রীর অভিভাবকরা পুলিশে খবর দিলে ঠাকুরদাস মহল্লার আবদুস সামাদের ছেলে সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করে হারাগাছ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু থানার ওসি আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে ওইদিন মধ্যরাতে বিএনপি দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান পলাশ ও একই দল থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমানের হাতে তাদের তুলে দেন।

পরে রোববার রাতে হারাগাছ ইউপি কার্যালয়ে জোরপূর্বক টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিচার বসানো হয় বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে, ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হন বিএনপি নেতা পলাশ ও মাহবুব।

এ ধরনের ঘটনা বিচারের এখতিয়ার না থাকার কথা স্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রাকিবুল হাসান পলাশ,বলেন, সামাজিকতা রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এসময় থানা থেকে ধর্ষক ও ভুক্তভোগীকে নিয়ে আসার বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান তিনি।

এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে ফোন কেটে দেন।

মন্তব্য