ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তাব পাকিস্তান সংসদে

প্রজন্ম ডেস্ক

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন পাকিস্তানের সংসদ সদস্যরা। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু করে কাশ্মীর দখল করার কথা জানান তারা।

এদিকে, মঙ্গলবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক মালয়েশীয় থিংকট্যাংকদের একটি অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের জবাব হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

কাজেই মিয়ানমার ও কাশ্মীরে যা ঘটছে, যেখানে কেবল ধর্মের কারণে মুসলমানদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে, এমন বিষয়গুলোতে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে জানান তিনি।

গত সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সংসদে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তাবের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

তিন ঘণ্টার অধিবেশনের শেষ মুহূর্তে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পাকিস্তানের সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলি মহম্মদ খান।

দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে আক্রমণের পরিকল্পনা করে জম্মু ও কাশ্মীর দখল করুন।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজলের পক্ষ থেকে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার অনুরোধ করা হয়।

এ দলের নেতা মাওলানা আবদুল আকবর ছিত্রালি আরও একধাপ এগিয়ে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আবেদন করেন। তার এই আবেদনকে সমর্থন জানায় পাকিস্তানের অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

এদিকে, আজ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক মালয়েশীয় থিংকট্যাংকদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, লড়াই করতে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হোক, সেটা আমরা চাই না, কিন্তু অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করুক।

তিনি বলেন, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানসহ সর্বত্র মুসলমানদের বিপর্যয়ের কাহিনী। এর কারণ হচ্ছে, আমাদের কোনো ঐক্য নেই। আমাদের মধ্যে বিভক্তির কোনো শেষ নেই। এমনকি কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির বৈঠকেও আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের জবাব হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর ঐকবদ্ধ হওয়া। কাজেই মিয়ানমার ও কাশ্মীরে যা ঘটছে, যেখানে কেবল ধর্মের কারণে মুসলমানদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে, এমন বিষয়গুলোতে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মুসলমান দেশগুলো।

মন্তব্য