‘সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বড় মেসেজ দেওয়া হবে’- আমির খসরু

প্রজন্ম ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর উপলক্ষে দলটির ডাকা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ সবাইকে সর্বশক্তি নিয়ে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দেশবাসী ও বিদেশিদের বড় ধরনের মেসেজ দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে “সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বনাম ভোটের অধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর উপলক্ষে বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আমি আশা করবো, আপনারা (বিএনপির কর্মী) জনসভায় দলেবলে উপস্থিত হবেন। কারণ আন্দোলন তো চলছেই, এখন আন্দোলন নতুন রূপ নেবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্ত করার বিষয়ে এ জনসভা থেকে দেশবাসী এবং বিদেশিদের বড় মেসেজ দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনে গিয়েছি গণতন্ত্রের মাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবে। এখন সেই আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মা এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। মানুষের বাক-স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেজন্য বিভিন্ন সময়ে আমরা কর্মসূচি দিয়েছি এবং নির্বাচনেও অংশ নিয়েছি। এর কোনোটাই আজ পর্যন্ত কাজে আসে নাই। সুতরাং আগামীর জন্য আমাদের ভাবতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমির খসরু বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় রয়েছেন আগামীকাল দুই বছর হতে যাচ্ছে। এই যে জনগণের ভোট, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া- এসব কিছুর সঙ্গে খালেদা জিয়ার জেলা থাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ওনাকে জেলে রেখে জনগণের ভোটের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং যতদিন গণতন্ত্রের মা জেলে থাকবেন ততদিন ভোটাধিকার, বাক-স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে পাবেন না।

আওয়ামী লীগ ১০০ ভাগ বিধিমালা ভঙ্গ করে নির্বাচন করেছে অভি‌যোগ করে আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা নির্বাচনটা করেছি ১০০ শতাংশ নীতিমালা মেনে। নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করে আমরা নির্বাচন করি নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ ১০০ শতাংশ বিধিমালা ভঙ্গ করে নির্বাচন করেছে। তারা নির্বাচনের আচরণবিধি কিছুই মানে নাই। ভোটের দিন প্রার্থীকে পাশে রেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর থেকে বড় আচরণবিধি ভঙ্গ আর কিছু হতে পারে না। যখন সরকারপ্রধান সরাসরি ভোটের দিন প্রার্থীকে পাশে রেখে এই ধরনের মন্তব্য করেন এরপরে কিন্তু আর কোনও নির্বাচন থাকে না। কারণ, নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তিনি মেসেজ দিয়েছেন —নৌকা জয়ী হতে হবে’।’

নির্বাচন কমিশনের আর কোনোও প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ভোটের সাথে নির্বাচন কমিশনের কোনও সম্পর্কই নাই। ভোট হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে, সরকারি কর্মচারীরা ভোট করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ ভোট করছেন। তবে আর নির্বাচন কমিশনের কি প্রয়োজনীয়তা আছে? যতবার নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছি, কথা বলেছি, মনে হয়েছে তাদের মাথার ওপর একটি তলোয়ার ঝুলে রয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে যেটা বুঝেছি, দেয়ালের সাথে কথা বলা এবং তাদের সাথে কথা বলার মধ্যে কোনও পার্থক্য নাই।’

আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন

মন্তব্য