ডাস্টবিনে পাওয়া নবজাতকের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে মিলল চার ধর্ষক

প্রজন্ম ডেস্ক

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন থেকে উদ্ধারকৃত নবজাতক পেল তার মায়ের কোল। গত মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডাস্টবিন থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় চার বন্ধুকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারা হলো পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে অর্নাস প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফুল ইসলাম (১৯), সরলা চান্দেরপাড়া গ্রামের মৃত বিমল চন্দ্র সরকারের ছেলে তাপস সরকার (২৮), ধনশালা গ্রামের হিন্দুপাড়ার সুবল চন্দ্র রায়ের ছেলে সঞ্জিত কুমার রায় (২০) ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় দাউদপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে রাহেল সরকার (৩২)।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় টিভিএস শো-রুমের কর্মচারী ও মেকানিক। একে- অপরের বন্ধু তারা। মোবাইলের মাধ্যমে পীরগঞ্জ উপজেলার শারমিন খাতুন (ছদ্দনাম) নামে এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সস্পর্ক গড়ে উঠে উপজেলা সদরের টিভিএস মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারে কর্মরত রাহেল সরকারের।

সেই সুবাদে গত বছরের ২৯ জুন পীরগঞ্জ থানা সদরের টিভিএস মোটরসাইকেলের সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতরে পরিকল্পিতভাবে রাহেলসহ আরও তিন বন্ধু শারমিনকে গণধর্ষণ করে। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয় শারমিন। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে প্রসব ব্যথা শুরু হলে অপরিচিত ভ্যানযোগে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যায় শারমিন। সেখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ রোগী ও তার সন্তানের বাবার পরিচয় জানতে চাওয়ায় ভ্যানচালক চলে যায়। এ অবস্থায় প্রসব ব্যথায় কাউকে কিছু না বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দোতলায় ওঠার সময় সন্তান প্রসব করে শারমিন। তখন কাউকে কিছু না জানিয়ে নবজাতককে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যায় শারমিন।

মঙ্গলবার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ওই নবজাতককে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এদিকে থানা পুলিশ খবর পেয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে শারমিনকে উদ্ধারের পর নবজাতককে তার কাছে নিয়ে যায়। বুধবার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নবজাতক ও তার মাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, এ ঘটনায় আরিফুলকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করতে গিয়ে অন্য ধর্ষকদের সন্ধান পায় পুলিশ। তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। তাদের গণধর্ষণের ফলে এই নবজাতকের জন্ম হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য