খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির সমাবেশ উপস্থিতি কম!

প্রজন্ম ডেস্ক

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পূর্বঘোষিত সমাবেশ করছে বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির এ সমাবেশ।  তবে আগে থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিলেও সমাবেশে লোক সমাগম হয়েছে তুলনামূলক কম।

সাধারণত, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি সমাবেশ করলে পশ্চিম দিকে নাইটেঙ্গেল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ নেতাকর্মীতে ভরে যায়। এদিন অবশ্য তেমনটা দেখা যায়নি। রাস্তার একপাশই পুরোপুরি ভরেনি। শুধু তাই নয়, বেলা সাড়ে তিনটা নাগাদ সমাবেশ স্থল থেকে অনেকেই চলে যেতে থাকেন। ফলে সমাবেশ আরো ছোট হচ্ছে।

এদিকে লোক সমাগম নিয়ে অসন্তুষ্টি গোপন থাকেনি দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বক্তব্যে। তিনি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সমাবেশে বারবার আপনারা বলেছেন, অমুক ওয়ার্ড থেকে থেকে বিশাল মিছিল আসছে, তমুক ওয়ার্ড থেকে বিশাল মিছিল আসছে। তেমনটা হলে আমাদের সমাবেশ তো শাপলা চত্বরে (মতিঝিল) গিয়ে ঠেকার কথা ছিলো। এসময় তিনি নেতাদের বুঝেশুঝে কথা বলার অনুরোধ করেন।

এদিকে সমাবেশে আসা অনেক কর্মী সমর্থকের মনেও হতাশা! একজন বলেন, আসলে বিএনপির নেতারাই চান না খালেদা জিয়া মুক্তি পাক। তারা যদি সেটা চাইতেন তাহলে সমাবেশে আরো তিনগুণ লোক হতো।

তারপরেও সমাবেশে যতো লোক এসেছেন তাদের তিন ভাগের এক ভাগও যদি নির্বাচনে থাকতো তাহলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো বলে দাবি করেন আলাল।

এর আগে তিনটি ট্রাক পাশাপাশি রেখে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তার ওপর সমাবেশের মঞ্চ তৈরি করে বিএনপি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি হতে থাকেন। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন প্লেকার্ড হাতে স্লোগানে মুখরিত দলীয় কার্যালয়ের নয়াপল্টন এলাকা।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশের লিখিত অনুমতি না মেলায় অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই সমাবেশের মঞ্চ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দলটি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান বেগম জিয়া। গত দশ মাস ধরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি নেত্রী। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ৩৪টি মামলাতেই জামিনে রয়েছেন তিনি। মুক্তি পেতে হলে তাকে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে জামিন নিতে হবে।

কারাবন্দী হওয়ার পর আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়াকে মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি দলটি। দুই বছর পর আজকের সমাবেশে বিএনপি নেতারা কী ঘোষণা দেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য