ফিলিস্তিনের কৃষিপণ্য রফতানির একমাত্র পথ বন্ধ করে দিল ইসরায়েল

প্রজন্ম ডেস্ক

জর্ডানের মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বে ফিলিস্তিনের কৃষিপণ্য রফতানির পথটি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার জেরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘোষণা দিল ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখন থেকে তাদের ভূমি ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের আর পণ্য পরিবহন করতে দেয়া হবে না। ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীর দিয়ে এটিই বহির্বিশ্বে ফিলিস্তিনের একমাত্র পণ্য রফতানির পথ।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন চেকপয়েন্টে জাহাজবোঝাই শাক-সবজি আটকে দিয়েছে, যেগুলো বিদেশে রফতানির জন্য যাচ্ছিল।

ফিলিস্তিনি কৃষিমন্ত্রী রিয়াল আল-আত্তারি বলেন, ইসরায়েল রফতানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছে রোববার থেকে জর্ডান সীমান্ত দিয়ে বিশ্ববাজারে ফিলিস্তিনি কৃষিপণ্য রফতানি নিষিদ্ধ হচ্ছে।

দেশটির উপ-অর্থমন্ত্রী তারিক আবু লাবান জানান, সম্প্রতি ফিলিস্তিন সরকার ইসরায়েল থেকে পশু আমদানি বন্ধ ঘোষণার জেরেই এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন ইসরায়েল থেকে গরুর মাংস আমদানি বন্ধ করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা ইসরায়েল থেকে প্রতি মাসে যে ১ লাখ ২০ হাজার পশুর মাথা আমদানি করতো, সেটা অন্য দেশ থেকেই সরাসরি আমদানি করা হচ্ছে। ইসরায়েলনির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

গত বছর পশ্চিম তীরের মোট সবজির ৬৮ শতাংশসহ দেশটি ইসরায়েলে সবজি রফতানি করেছিল প্রায় ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ফিলিস্তিন পশু আমদানি বন্ধ করার পরপরই ইসরায়েলের বাজারে বড় ধস নামে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে বারবার চাপ দিচ্ছিল ইসরায়েলি খামারিরা। এর জেরে ফিলিস্তিনের বেশ কিছু পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তাতে ক্ষোভের আগুন আরও বেড়ে যায় ফিলিস্তিনিদের। তারা একাধারে ইসরায়েলি সবজি, ফলমূল, পানীয় বর্জন ও নিষিদ্ধ করতে শুরু করে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, নিষেধাজ্ঞা তুলতে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতেই তারা এ ব্যবস্থা নিয়েছে। বিপরীতে ইসরায়েলের দাবি, আগে তাদের ওপর পশু রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে ফিলিস্তনকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশের পর এ বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে দেখা দেয়। ট্রাম্পের কথিত ওই ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’কে ইসরায়েল সাধুবাদ জানালেও তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি জনগণ। এ প্রস্তাবনাবিরোধী আন্দোলনে ইসরায়েলিবাহিনীর গুলিতে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গতমাসে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে নিজের কল্পিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা উন্মোচন করেন ট্রাম্প। কথিত ওই শান্তি পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য একের পর কঠিন শর্ত পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সামরিকশক্তি মুক্ত থাকতে হবে বলেও শর্ত দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

মন্তব্য