দরজা বন্ধ করে অফিস করেন বালিয়াডাঙ্গীর ইউএনও

প্রজন্ম ডেস্ক

‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ প্রতিপাদ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী অফিসাররা নিজেদের দপ্তর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুনাম অর্জনের পাশাপাশি জনসাধারণের আস্থার প্রতীক হয়েছেন। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চিত্র উল্টো।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন দরজা বন্ধ করে পালন করছেন দাপ্তরিক কার্যক্রম। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

এদিন দুপুরে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নফাঁস এবং নকল সরবরাহের সময় পুলিশের হাতেনাতে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে তিনজনকে আটক হয়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য ইউএনও অফিসে গেলে তার কক্ষে প্রবেশের দুটো দরজা বন্ধ পাওয়া যায়।

অফিসের স্টাফদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস ধরে ইউএনও’র রুমে প্রবেশের দরজা বন্ধ। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার ২০২ নম্বর কক্ষের ভেতর একটি গোপন দরজা দিয়ে ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করছেন দাপ্তরিক কাজে আসা লোকজন। আর বাইরে ইউএনও’র নেমপ্লেট ঝুলানো দরজা বন্ধ এবং অন্যটিতে তালা ঝুলানো।

গোপন দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে ইউএনও খায়রুল আলম সুমন জানান, এখন ব্যস্ত আছি। আসা যাবে না। আটক তিনজনকে কি রায় দিলেন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, পুলিশের কাছ থেকে জেনে নেবেন।

প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেসবুকের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মোবাইলে প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের দায়ে আজিজুর রহমান, মুন্না ও আব্দুল খালেক নামে তিন ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাসিবুল ইসলাম জানান, আসামিদের মঙ্গলবার বিকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিমকে মুঠোফোনে ইউএনও’র দরজা বন্ধের বিষয়ে অবগত করলে তিনি জানান, আমি এ বিষয়ে ইউএনও’র সাথে কথা বলব।

মন্তব্য