মধ্যরাতে ইবি ছাত্রলীগের দুগ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৭

প্রজন্ম ডেস্ক

 সিনিয়র-জুনিয়র কথা কাটাকাটির জের ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২৭ নং রুমে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের প্রায় ৭ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জিয়া হলের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জেবিয়ারকে বন্ধু ভেবে ডাক দেয় আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কর্মী কামাল। পরে দুঃখ প্রকাশ করলেও সে কামালকে শাসায় ও পরে দেখা করতে বলে বলে জানা যায়। কামাল তার বন্ধুদের নিয়ে জিয়াউর রহমান হলের ১২৭ নং রুমে জেবিয়ারের সাথে দেখা করতে যায়।

এসময় কামালের সাথে জেবিয়ারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জেবিয়ার কামালের গায়ে হাত তুললে তাকেও মারধর করে কামাল ও তার বন্ধুরা। সংবাদ পেয়ে শাখা ছাত্রলীগের নেতা আরাফাত, সোহাগ, বিপুল, অনিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং সমাধান করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে কামাল বলেন, আমি ভুল করে বন্ধু ভেবে তাকে ডেকেছিলাম। পরে ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছি। তবুও তিনি আমাকে গালাগালি করে রুমে যেতে বলেন। আমি রুমে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে থাপ্পড় ও পেটে ঘুষি মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বন্ধুরা তাকে মারধর করে।’

এ বিষয়ে জেবিয়ার বলেন, ‘আমি তাকে মারিনি, বরং সেই আমাকে মেরেছে।’

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জিয়া হলের ২০৮ নম্বর কক্ষে কামাল অবস্থান করছে জানতে পেরে জেবিয়ার তার গ্রুপের ইমতিয়াজ, জয়, সালমান, হামজাসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐ রুমে আক্রমণ করে। এসময় কামাল ও হল ছাত্রলীগ নেতা ইনামুল রায়হান কক্ষ থেকে বের না হলে তারা দরজায় লাথি দেয় ও ভেতরে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।

কামালকে না পেয়ে তারা হল থেকে বেরিয়ে আসলে ঐ হলসহ বিভিন্ন হল থেকে আসা কামালদের গ্রুপের সাথে জেবিয়ারদের সংঘর্ষ বাধে। এসময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঠা, স্টাম্প ও রড দেখা যায়। এসময় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের হিমেল চাকমা নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী গুরুতর আহত হয়। তাকে ইবি চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া সদরে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় রিয়ন, সাব্বির সহ আরোও কয়েকজন আহত হয়।

পরে জিয়া হলে ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল সোহাগের অনুসারী ইমতিয়াজের কক্ষ (৪১৫) ভাংচুর করে অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা। এসময় সাদ্দাম হোসেন হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর আলো, আবু হেনা, আরাফাত, বিপুল, শাহজালাল সোহাগ, অনিক ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন এবং পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান ও সংঘর্ষ শেষে সেখানে আসেন বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সংঘর্ষের সময় পুলিশকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন সচেতন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিপ বলেন, আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। আমরা ফোর্স নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে ছিলাম, কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ পাইনি।

প্রক্টর অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, সংবাদ পেয়ে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে আসি। ছাত্রলীগের নেতারা নিজেরাই বিষয়টি সমাধান করায় আমরা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে কেন আসল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ ফোর্স নিয়ে প্রধান ফটকে প্রস্তুত ছিল, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা ঘটনাস্থলে আসেনি।

মন্তব্য