দিল্লিতে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন যে বীর পুলিশ

প্রজন্ম ডেস্ক

ভারতে প্রায় তিন মাস ধরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ চলছিল। এরই মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে গেত রোববার থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ সহিংসতা। বুধবার পর্যন্ত স্থায়ী ওই সহিংসতায় কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩ শতাধিক মানুষ।

এমন অবস্থায় নিজের জীবন বাজি রেখে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো পুলিশ কর্মকর্তা নীরাজ জাদাউনকে ‘হিরো পুলিশ’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে এখন। সাধারণ মানুষের জীবন সম্পদ সুরক্ষা দিতে নেয়া শপথ রক্ষায় তার এই জীবনবাজির ঘটনা আলোড়ন ফেলেছে সবার মধ্যে।

ঘটনায় বর্ণনা করতে গিয়ে নীরাজ বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি সীমান্ত চৌকিতে টহল দিচ্ছিলেন তিনি। আচমকা তার অবস্থান থেকে ২০০ মিটার দূরে উত্তর-পূর্ব দিল্লির কারওয়াল নগরে থেকে তিনি গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পান।

এসময় তিনি দেখেন ৪০-৫০ জন মানুষের একটি দল যানবাহনে আগুন দিচ্ছেন আর তাদের মধ্যে একজন হাতে পেট্রল বোমা নিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে জাদাউন সিদ্ধান্ত নেন তিনি পুলিশের ঐতিহ্যবাহী প্রোটোকল ভাঙবেন। এরপর প্রাদেশিক সীমানা ছেড়ে দিল্লি সীমান্তে প্রবেশের দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতে সীমানা ছেড়ে অন্য রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নানারকম অনুমতি নিতে হয় পুলিশকে। তবে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর যে তাড়া নীরাজ জাদাউনের ভেতর কাজ করেছিল তখন, তা রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন থেকে পিছপা হতে দেয়নি।

নীরাজ বলেন, ‘ব্যাপারটি আসলে খুব বিপজ্জনক ছিলো। আমরা দাঙ্গাবাজদের চেয়ে সংখ্যায় কম ছিলাম আর তারা ছিলো সশস্ত্র। শুরুতে আমরা সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমরা তাদের বলি, শান্ত হও- না হলে পুলিশ গুলি চালাবে। এ ঘোষণার পর তারা পিছু হটলেও সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের দিকে পাথর ছোড়া শুরু করে এবং আমরা গুলিরও শব্দ পেয়েছিলাম।’

এরপর নীরাজ জাদাউন ও তার দল অবস্থান নেয় এবং দাঙ্গাকারীরা সম্পূর্ণ সরে না যাওয়া পর্যন্ত তার দল তাদের চাপ দিতে থাকে। নীরাজের এ সিদ্ধান্তকে দুঃসাহসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেন ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত হিন্দি দৈনিক আমার উজালার প্রতিবেদক রিচি কুমার। এমন সাহসী কাজ কখনো দেখেননি বলে জানান তিনি।

নীরাজ জাদাউন বলেন, ‘আমি কোনো হিরো নই। কোনো ভারতীয় বিপদে পড়লে তাকে সুরক্ষা দেয়ার শপথ নিয়েছি আমি। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। কারণ আমি আমার চোখের সামনে কোনো মানুষকে মরতে দিতে পারি না। আমরা হস্তক্ষেপ করতে অবস্থান নেই এবং আমরা তা করেছি।’

মন্তব্য