মাদকাসক্তদের জন্য দু:সংবাদ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রজন্ম ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘কোনো মাদকসেবী আর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। এখন থেকে চাকরিতে প্রবেশের আগে ডোপ টেস্ট আবশ্যিক করা হয়েছে।’

শনিবার চুয়াডাঙ্গার নতুন দর্শনা থানার উদ্বোধন ও ৯০ জন মাদক ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মাদক ব্যবসা ছাড়বে না তাদের জেলে যেতে হবে। নতুবা চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। আমরা কঠোর অবস্থানে থাকতে চাই। প্রত্যেককে নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। তারা কার সঙ্গে মিশছে, মাদক নিচ্ছে কিনা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোন সময় আপনাদের দর্শনাকে উপজেলা করে দিতে পারেন। কারণ শেখ হাসিনা যা বলেন তাই করেন। তিনি এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা নেতা নন, তিনি সারা বিশ্বের নেতা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কথা উল্লে­খ করে তিনি বলেন, শুধু আমাদের দেশেই নই সারা বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে।

এর আগে দর্শনা নতুন থানার উদ্বোধনের পর পাপিয়ার ব্যাপারে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুব মহিলালীগ নেত্রী পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে দল বিব্রত। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দলের আগাছা পরিস্কার অভিযান শুরু হয়েছে। কেউ এর বাইরে যেতে পারবে না।

তিনি বলেন, শুধু পাপিয়া নয়, তাদের সকল গডফাদার-গডমাদারকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কোনভাবেই এসব কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া যাবে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর পর চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পিবিআই সফলতার পরিচয় দিয়েছে। খুব দ্রুতই সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের জট খুলে এর মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।

মুজিববর্ষে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ নিয়ে বাম সংগঠনগুলোর আপত্তি ও হেফাজতের প্রতিহতের ঘোষণার বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সেতুমন্ত্রী ও আমাদের সাধারণ সম্পাদক দলের অবস্থান পরিস্কার করেছেন।

থানা উদ্বোধনের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ আয়োজিত জঙ্গী, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী এক জনসভায় যোগ দেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সেখানে মন্ত্রীর হাতে ফুল দিয়ে জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত ৯০ জন মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমপর্ণ করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, চুয়াডাঙা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলি আজগার টগর, মহেষপুর-কোটচাঁদপুর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা ডিআইজি ড: খন্দকার মহিদ উদ্দিন বিপিএম (বার) চুয়াডাঙা অতি: জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন, দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবু, দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান প্রমুখ।

মন্তব্য