যৌন হয়রানি ঠেকাতে না পেরে প্রশিক্ষকের আত্নহত্যার চেষ্টা

প্রজন্ম ডেস্ক

চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) নারী প্রশিক্ষণার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন দেবব্রত বড়ুয়া। ঘটনার প্রতিকার বা প্রতিবাদ করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তিনি।

দেবব্রত বড়ুয়া পিটিআই-এর ইন্সট্রাক্টর। আত্মহত্যার চেষ্টার পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা খোলা চিঠিতে তিনি তুলে ধরেছেন তার অপারগতা এবং মনোবেদনার কথা। এ নিয়ে সমগ্র চট্টগ্রামে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও পরিবারের দ্রুত হস্তক্ষেপে হাসপাতালে ভর্তি করায় তিনি  প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা উন্নতির দিকে।

দেবব্রত বড়ুয়ার ভাই শরণ বড়ুয়া জানান, ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখে ঘুমের ওষুধ খেয়ে গত শুক্রবার গভীর রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দেবব্রত। ফেসবুকের স্ট্যাটাস পড়ে বিভিন্নজন তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনা বুঝতে পেরে পাশের রুম থেকে তার স্ত্রী এবং অন্যান্যরা ঘরের দরজা ভেঙে দেবব্রতকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

দেবব্রত বড়ুয়ার ফেসবুকের খোলা চিঠির সূত্রে জানা যায়, পিটিআইতে দীর্ঘদিন ধরে নারী প্রশিক্ষণার্থীরা নানাভাবে যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছেন। ইনস্টিটিউটের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রশিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, চারু ও কারুকলা বিভাগের প্রশিক্ষক সবুজ কান্তি আচার্য এবং সাধারণ শিক্ষা বিভাগের মো. জসীম উদ্দিন এই যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন দেবব্রত।

এদিকে গত শনিবার পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা জাহান উপমা পিটিআই পরিদর্শন করে প্রশিক্ষণার্থী নারীদের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। উপমা বলেন, ‘অভিযোগ সম্পর্কে জানতে আমি পটিয়া প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে গিয়েছিলাম। কথা বলেছি। কিছু অভিযোগও পেয়েছি। এ প্রসঙ্গে তাদের লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছি। এরপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রশিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সবুজ কান্তি আচার্য এবং মো. জসীম উদ্দিন তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক বলে জানিয়েছেন। প্রশিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল ও বিরোধের জের ধরে দেবব্রত বড়ুয়া এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করে ঘটনা সাজিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।

মন্তব্য