উচ্চমূল্যে নিম্নমানের খাবার নোবিপ্রবি ক্যাফেটেরিয়ায়!

প্রজন্ম ডেস্ক

উচ্চমূল্যে নিম্নমানের খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেহাল দশা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার। স্যাঁতসেঁতে মেঝে, মাছির ভনভন শব্দের সঙ্গে পোড়া ও বাসি তেলে চলে রান্নার কাজ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা খাবার খেয়ে একদিকে শিক্ষার্থীরা যেমন গ্যাস্টিক, আলসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অন্যদিকে খাবারের উচ্চমূল্য হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। সরেজমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আর কোনো খাবার হোটেল বা দোকান না থাকায় এ ক্যাফেটেরিয়াই শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা। সেই ভরসাস্থলের এমন বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো খাবার বা চায়ের দোকান নেই। এই সুযোগে শিক্ষার্থীদের একরকম জিম্মি করে ক্যাফেটেরিয়ার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে খাবারের উচ্চমূল্য নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের খাবারের দোকানগুলোর তুলনায় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ঠিক উল্টো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা সত্ত্বেও ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের ফলে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোনো বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা থাকলে তারাই বেশি বিড়ম্বনায় পড়েন। একদিকে মানহীন অন্যদিকে খাবারের দাম বেশি।

সরেজমিন আরও দেখা যায়, কয়েকদিনের পোড়া তেলে রান্না হচ্ছে বিভিন্ন খাবার। অন্যদিকে, রান্নাঘরের অপরিষ্কার, নোঙরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ দেখে যে কারোরই গা ঝিমঝিম করে উঠবে। যেসব টেবিলে বসে শিক্ষার্থীরা খাবার গ্রহণ করেন সেখানে ভনভন করে উড়ছে মাছি। এছাড়া বাসি-পচা খাবার গরম করে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানহীন খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা গ্যাস্টিক, আলসার, হেপাটাইটিস, টাইফয়েডসহ লিভার ও কিডনির বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

মন্তব্য