রিকশা থেকে পড়ে তারিনার মৃত্যুর পর গা ঢাকা দেয় ছিনতাইকারীরা

প্রজন্ম ডেস্ক

রাজধানীর মুগদায় চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ে রিকশা থেকে ছিটক পড়ে তারিনা বেগম লিপা মারা যান। তারিনার ব্যাগ ছিনতাইয়ের পর ওই দিনই টয়েনবি রোড ফকিরাপুল, মতিঝিল, মিরপুর টেকনিক্যাল ঘুরে সুযোগ বুঝে আরাে একটি ছিনতাই করে তারা। তবে রাতে গণমাধ্যমে প্রচারিত তারিনার মৃত্যুর সংবাদে গা ঢাকা দেয় এই ছিনতাইকারী চক্র।

তবে গত শনিবার রাতে সংঘবদ্ধ চক্রটি ফের ছিনতাইয়ের জন্য বের হয়। ওঁৎপেতে থাকা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগের একটি দল মিরপুর থেকে মুগদায় গিয়ে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে চারজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন, মাে. মিজুয়ান মিয়া, শেখ লিটন, আব্দুল মজিদ ও রফিক হাওলাদার। সে সময় তাদের কাছ থেকে এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র, দু’টি ছুরি ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দু’টি প্রাইভেটকার এবং ভিকটিমের একটি ট্যাব ও নগদ এক হাজার সাতশ’ টাকা উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশের (গোয়েন্দা) অতিরিক্ত কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন।

গ্রেফতার মিজুয়ান মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ভাের বেলায় মুগদা এলাকার ছিনতাইয়ের জন্য তারা খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে কমলাপুর স্টেডিয়ামের মাঝামাঝি অবস্থান করছিল। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সিলেটের গোলাম কিবরিয়া ও তার স্ত্রী তারিনা বেগম লিপা দুই সন্তানসহ রিকশাযোগে কমলাপুর রেল স্টেশনে যাচ্ছিলেন। ছিনতাইকারীরা লিপার হাতে থাকা ব্যাগটি টার্গেট করে এবং রিকশাকে প্রাইভেটকারযােগে ধীর গতিতে অনুসরণ করতে থাকে। পরে দক্ষিণ মুগদার ইউনিক বাস কাউন্টার অতিক্রম করার পরে তারা লিপার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে টান দেয়। এ সময় ভিকটিম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিকশা হতে পড়ে মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন।

মিজুয়ান জানায়, এসময় তাদের বড়ভাই মনা গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পরে তারা টয়েনবি রোড ফকিরাপুল, মতিঝিল, মিরপুর টেকনিক্যালে আরাে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। তারপর তারা বাসায় ফিরে যায়। গণমাধ্যমে প্রচারিত মৃত্যুর সংবাদ শুনে তারা মিরপুরে বেশ কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে ছিল।

বাতেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত মনা পলাতক আছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় গ্রেফতার শেখ লিটনের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও পলাতক মনার বিরুদ্ধেও ৪টি মামলা আছে।

তিনি আরও বলেন, তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালাে অস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায়, তাদের সুবিধামতো স্থানে রাতে বা ভোররাতে রাস্তায় চলাচলকারী ব্যক্তিদেরকে গতিরােধ করে অস্ত্র ও ছুরির মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে মালামাল নিয়ে যায়। গতকাল রাতেও তারা ছিনতাইয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ঢাকায় যারা প্রাইভেটকারে ছিনতাই করে তারা যদি ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি না নেয় তাহলে শনাক্ত করা কঠিন। আর ছিনতাইকারীরাও টহল পুলিশ কিংবা পুলিশ পেট্রলগাড়ির সামনে ছিনতাই করে না। তবে ছিনতাই এবং নগরবাসীর জানমাল রক্ষায় পুলিশ আরো বেশি প্রস্তুত থাকবে।

মন্তব্য