বাজারে করোনাভাইরাসের ওষুধ আনছে ফুজি

প্রজন্ম ডেস্ক

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় একটি ওষুধের ব্যবহারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে জাপানি কোম্পানি ফুজিফিল্ম। দুটি পর্যায়ে সফলভাবে পরীক্ষা শেষে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পরীক্ষার অংশ হিসেব মানবদেহে এর প্রয়োগের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। মঙ্গলবার তারা এ ঘোষণা দিয়েছে।

ওই ওষুধটির নাম অ্যাভিগান। ফুজিফিল্মের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি টয়ামা কেমিক্যাল কোং লিমিটেড ওষুধটি তৈরি করেছে। দেহে ফ্লু ভাইরাস প্রতিরোধে জাপানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অ্যাভিগান।

অ্যাভিগানের জেনেটিক নেম ফ্যাভিপিরাভির। ফুজিফিল্ম বলেছে, তারা আশা করছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধেও কার্যকরী প্রমাণিত হবে অ্যাভিগান।

জাপানি কোম্পানিটি জানিয়েছে, অ্যাভিগান এক ধরনের অ্যান্টি-ভাইরার ড্রাগ। এ ধরনের ওষুধ মানবদেহে ভাইরাসের বংশবিস্তার রোধে দারুণ কার্যকর। এরা এক ধরনের এনজাইম খেয়ে ফেলে যা ভাইরাসের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। সে হিসাবে অ্যাভিগানও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছেন তারা।

এর আগে ইবোলা ভাইরাস চিকিৎসায় অ্যাভিগানের জেনেটিক গোত্রীয় ফ্যাভিপিরাভির’র প্রয়োগ ঘটান গবেষকরা। ইঁদুরের ওপর এর পরীক্ষা চালিয়ে ফলও পেয়েছিলেন তারা। তবে মানবদেহে এর কার্যকারিতা ঠিক কেমন-তা এখনও প্রমাণিত নয়। তবে গবেষকদের দাবি, মানবদেহে অ্যাভিগানের প্রয়োগে অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে।

ফুজিফিল্ম বলেছে, করোনা চিকিৎসায় ব্যবহারের অংশ হিসেবে প্রথম দুই ধাপ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে অ্যাভিগান। এখন তারা আশা করছেন, মানবদেহে প্রয়োগেও এর আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।

এদিকে মানবদেহে অ্যাভিগানের প্রয়োগে ফলাফল ইতিবাচক ধরে সামনের দিকে এগোচ্ছে ফুজিফিল্ম। ইতোমধ্যে উৎপাদনও বাড়িয়ে দিয়েছে তারা।

জাপানি এই কোম্পানিটি জানিয়েছে, এটি কার্যকরী প্রমাণিত হলে শুধু জাপান নয়, সারাবিশ্ব জুড়ে সরবরাহ করা হবে অ্যাভিগান।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এ পর্যন্ত বিশ্বের ৪২ হাজার জনের প্রাণ নিয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। তবে মৃত্যু সংখ্যাতেও চীনকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ মানুষ মারা যাবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. টনি ফৌসি।

করোনায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ইতালিতে, ১২ হাজার ৪২৮ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৫ হাজার ৭৯২।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মারা গেছেন স্পেনে, ৮ হাজার ৪৬৪। তবে চীনে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা (সরকারি হিসাব ৩ হাজার ৩০৫ জন) নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বর্তমান করোনাভাইরাস মহামারি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই মহামারি কঠিন অর্থনৈতিক মন্দা এনে দিতে পারে, যার সমকক্ষ সম্ভবত বিগত অতীতে দেখা যায়নি।

মন্তব্য