অপবাদ দিয়ে একই পরিবারের ৩ জনকে মল খাওয়ানোর অভিযোগ

প্রজন্ম ডেস্ক

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় তাবিজ-কবজ ও কালো যাদু করে মানুষের ক্ষতি করার অপবাদ দিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে তিন বোতল মানুষের মল খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন এক কলেজছাত্রী। এ ঘটনায় রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে জাজিরা থানায় মামলা করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাউখোলা চর বালিয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামের ভ্যানচালক নুরুল হক আকন (৪২)। তিনি তাবিজ-কবজ ও কালো যাদু করে মানুষের ক্ষতি করছে- এমন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিকেনগর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া তার ১৯ বছরের মেয়ে ও তার মা জমিলা বেগমকে (৫৫) গত শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিন বোতল মানুষের মল খাওয়ান একই গ্রামের জলিল ডাক্তার শিকদার, আমজাদ কাজি, মিজানুর মাদবর, ইদ্রিস বেপারী, ইউনুস কাজী, সিরাজ কাজী, আনোয়ার আকনসহ বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনার পর ওই কলেজছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে নুরুল হক আকন ও তার মা জমিলা বেগমও প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রোববার জাজিরা থানায় মামলা করা হয়েছে।

ভ্যানচালক নুরুল হক আকন বলেন, চক্রান্ত করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের এলাকার জলিল ডাক্তার, আমজাদ, মিজানুর, ইদ্রিস, ইউনুস, সিরাজ, আনোয়ারসহ বেশ কয়েকজন লোক শনিবার ভোরে আমার বাড়িতে আসে । আমাকেসহ পরিবারের সকলকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে তারা । পরে উঠানের মাঝখানে নিয়ে জোরপূর্বক কুরবানির পশুর মত মাটিতে শুইয়ে আমার মা, মেয়ে ও আমাকে তিন বোতল মল খাওয়ায়। পরে চিৎকার করলে স্থানীয়রা অসুস্থ অবস্থায় আমার মেয়েকে জাজিরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। আমরাও প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। আমি বিচার পাওয়ার জন্য রোববার থানায় মামলা করেছি । এখনও আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

নুরুল হক আকনের মেয়ে বলেন, আমি জাজিরা বিকেনগর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ি। আমার জীবনে কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। কলেজে ও এলাকায় আমি সবার সামনে মুখ দেখাব কীভাবে? ঘটনার পর আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে। এ জঘন্য ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।

আসামি জলিল ডাক্তার শিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকার আনোয়ার আকনের শ্যালককে কালো যাদু করে মেরে ফেলেছে নুরুল হক আকন। তাই আনোয়ার আমাদেরকে এ কাজ করতে বলেছে।

জাদু দিয়ে কাউকে মেরে ফেলা যায় কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, একাধিক ফকিরের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, নুরুল হককে যদি মানুষের মল খাওয়ানো হয় তাহলে সে আর কারেও ক্ষতি করতে পারবে না। তাই তাকে মানুষের মল খাওয়ানো হয়েছে।

মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যর কাছে শুনেছি। ঘটনার আগে বা পরে কেউ এ বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসেনি। তবে ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এর একটি কঠিন বিচার হওয়া দরকার।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, জাদু করে কাউকে মেরে ফেলা যায় এমন ঘটনা আমার জানা নেই। তবে মানুষের মল খাওয়ানো হয়েছে এমন এক কলেজছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, মূলনা ইউনিয়নে একটি পরিবারকে মানুষের মল খাওয়ানো হয়েছে এবং একটি মেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুল হক আকন সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য