ভেতরে সুরক্ষা, বাইরে দুর্ভোগ

প্রজন্ম ডেস্ক

মাসখানেক ছুটির পর ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়েছে।  দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে করোনার সংক্রমণ এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কারখানাগুলো চালু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে। 

তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কর্মস্থলে ফিরতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয় শ্রমিকদের। কারখানার ভেতরের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত থাকলেও ছুটির আগে পরে শোরগোল পড়ে যায়। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানেন না অনেক পোশাক কর্মী।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কমলাপুর, সায়েদাবাদ, শনিরআখড়ায় দেখা যায়, পোশাককর্মীরা পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন মানুষের স্রোত।  একে অপরের গায়ে ঘেঁষে, মেলামেশা করে গল্প-আড্ডায় হেঁটে চলেছেন। আর এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

কমলাপুরের একটা কারখানার সামনে দেখা যায়, প্রবেশের সময় রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, জুতায় জীবাণুনাশক স্প্রে ও শরীরে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।  কথা বলে জানা যায়, শুধু বাইরে নয়, ভেতরেও কর্মীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা পোশাক শ্রমিক মাসুদ রানা জানান, ব্যবস্থা সুন্দর, হাত ধোয়া, তাপমাত্রা মাপা ও টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কিন্তু কয়দিন থাকবে এটাই চিন্তার বিষয়। এতো মানুষ ধাক্কাধাক্কি করে ঢুকতে ও বের হতে হয়। আবার পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় হেঁটে আসা-যাওয়ায় অনেক কষ্ট। রাস্তায় দল বেঁধে হাঁটার সময় কেউ দূরত্ব বজায় রাখে না।

ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে পোশাক শ্রমিকরা রিকশা, সাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপে চেপে অনেকে আবার পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।  কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ‘সময়মতো অফিসে না এলে চাকরি থাকবে না। তাই জীবন বাজি রেখেই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি।’

পোশাক কারখানা মাল্টিফেবস এর চেয়ারম্যান মেজবাউদ্দিন ফারুকী এবং ডিরেক্টর মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সবধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক কারখানার ভেতরে ও বাহিরে জীবাণুনাশক স্পে করছেন। আর শ্রমিকদের প্রবেশের সময় তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে এবং নিরাপদ শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে নির্দেশনা পালনে বাধ্য করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার এবং শ্রমিকদের পোশাকের ব্যাপারে যা যা করার দরকার সবই করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান জানান, অন্তত আরও দুই সপ্তাহ করোনাপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা দরকার ছিলো।  যেহেতু কিছু কিছু কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুসরণ করা খুব জরুরি। আর শ্রমিকদের শারীরিক সুরক্ষার ব্যাপারটা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব বুলবুল বলেন, অনেক গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় প্রথমত শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। মুখে মুখে অনেক মালিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বলে থাকেন। আর এটা শুধু গার্মেন্টস এর বাইরে দেখা যায়।  ভেতরের পরিবেশও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। যদি কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে তাহলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি দুর্ভাগ‌্যক্রমে কেউ মারা যায় তাহলে সরকারের অন্যান্য সংস্থার কর্মী যে সাহায্য সহযোগিতা পায়, একজন গার্মেন্টস শ্রমিককেও তা দিতে হবে। কারণ তারাতো ব্যতিক্রম না।

মন্তব্য