হবিগঞ্জ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিকটন ধান-চাল নেবে সরকার

প্রজন্ম ডেস্ক

হবিগঞ্জ জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারীভাবে ৩০ হাজার ৫৮ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলবে এবং প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাপতিত্বে আগ্রহী কৃষকদের তালিকা ২ মের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, আটটি উপজেলা থেকে ১৫ হাজার ৮০১ মেট্রিক টন ধান, ১০ হাজার ১৬২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং চার হাজার ৯৫ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে।

এ বছর সরকার ধানের জন্য প্রতি কেজি ২৬ টাকা, সিদ্ধ চালের জন্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা এবং আতপ চালের জন্য প্রতি কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা করেছে।

উপজেলাগুলোতে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে- হবিগঞ্জ সদরে এক হাজার ৫০ মেট্রিক টন ধান, এক হাজার ৪৬১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৮২১ মেট্রিক টন আতপ চাল, লাখাই উপজেলায় এক হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন ধান, এক হাজার ১৩৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৩০০ মেট্রিক টন আতপ চাল, মাধবপুর উপজেলায় এক হাজার ৪১৪ মেট্রিক টন ধান, এক হাজার ৭২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ২৫৩ মেট্রিক টন আতপ চাল;

চুনারুঘাট উপজেলায় এক হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন ধান, ৮২৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ২৯২ মেট্রিক টন আতপ চাল, বাহুবল উপজেলায় এক হাজার ৯৯ মেট্রিক টন ধান, ৬০২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ২৯৮ মেট্রিক টন আতপ চাল, নবীগঞ্জ উপজেলায় দুই হাজার ৩১৮ মেট্রিক টন ধান, এক হাজার ২৫৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৬০৫ মেট্রিক টন আতপ চাল;

বানিয়াচং উপজেলায় ৪ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন ধান, দুই হাজার ৭৮৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, এক হাজার ১১৭ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় দুই হাজার ২০ মেট্রিক টন ধান, এক হাজার ২৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৪০৯ মেট্রিক চন আতপ চাল।

খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম আরও জানান, হবিগঞ্জ জেলায় ধান-চাল সরবরাহে ২৭টি মিল সিদ্ধ চালের জন্য এবং ৪৫টি মিল আতপ চাল সরবরাহের জন্য তালিকাভূক্ত আছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ধান সংগ্রহে আগ্রহী কৃষকদেরকে নাম তালিকাভূক্তির জন্য আবেদন করতে হবে। সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। কোনো ধরনের মধ্যসত্ত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সরকার এ বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন। এজন্য ইতোমধ্যেই প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধান-চাল সংগ্রহের বিষয় কৃষকদেরকে অবগত করার জন্য এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক তালিকা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বানিয়াচং উপজেলায় আগামী ২ মের মধ্যে আগ্রহী কৃষকদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। নবীগঞ্জ উপজেলায় আগামী ৫ মের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত হবে। বুধবার লাখাই উপজেলায় সংগ্রহের বিষয়ে সভা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, গত বছর কৃষকের তালিকায় কিছু অনিয়মের কথা তিনি জানতে পেরেছেন। এজন্য এ বছর তালিকা তৈরিতে যাতে কোনোরকম অনিয়ম-দুর্নীতি না হয় এবং প্রকৃত কৃষকদের নিয়েই তালিকা হয়, সে ব্যাপারে কড়া নজরদারী রাখা হবে।

এ ব্যাপারে কোনো অনিয়মের খবর পেলে গণমাধ্যমকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ জেলায় এ বছর এক লাখ ২০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৪৬ হাজার ৩৬০ হেক্টরে এবং অন্যান্য এলাকায় ৭৭ হাজার ৪৪০ হেক্টর। হাওর এলাকার ধানের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার ৩৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ মের মধ্যে বোরো ধান কাটা শেষ হবে।

মন্তব্য