মদের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ভারতীয়রা

প্রজন্ম ডেস্ক

করোনার বিস্তার ঠেকাতে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির মদের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ভারতীয়রা। মদের দোকান খুলে দেয়ার প্রথম দিন সোমবার সকালের দিকে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গছে বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

ভারতে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে আরও ১৪ দিনের জন্য লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সংক্রমিত এলাকা ছাড়া করোনার গ্রিন জোনে মদের দোকান চালু করা যাবে।

তবে শহরের মার্কেট এবং শপিংমলের মদের দোকান খোলা যাবে না বলে সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়। এতে বলা হয়, দোকানগুলোতে ক্রেতারা ৬ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে মদ কিনতে পারবেন। এছাড়া একটি দোকানে একবারে পাঁচজনের বেশি ঢুকতে পারবেন না।

ভারতে সোমবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে, মারা গেছেন এক হাজার ৩০০ জনের বেশি।

এনডিটিভি বলছে, দিল্লিতে মদের দোকান খোলার ঘণ্টা খানেকের মধ্যে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এ সময় পুলিশের সদস্যরা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হিমশিম খান। রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১০০টি মদের দোকান চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

দিল্লির প্রতিবেশী হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবে এখন পর্যন্ত মদের দোকান খোলার অনুমতি দেয়া হয়নি। অন্যদিকে, দেশটির সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত মহারাষ্ট্রের প্রত্যেকটি লেনে অপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মাত্র পাঁচটি করে দোকান খুলে দেয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশেও সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মদের দোকান খোলা রাখা যাবে বলে স্থানীয় প্রশাসন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের রাজধানী লক্ষ্নৌতে মদের দোকানের বাইরে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সেখানেও সামাজিক দূরত্বের বিধান উপেক্ষা করেই ক্রেতারা ভিড় জমান বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

কলকাতায় মদের দোকান খুলে দেয়ার ব্যাপারে এখনও সরকারি কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি। তারপরও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মদের দোকানে শত শত মানুষ ভিড় করছে। কলকাতা পুলিশ কালিঘাট এলাকায় মদের দোকানের সামনে জমায়েত হওয়া শত শত মানুষকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।

এছাড়াও দেশটির হিমাচল প্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থানেও সোমবার থেকে মদের দোকান খুলে দেয়া হয়েছে। ততৃীয় দফায় লকডাউন বাড়ানো হলেও দেশটিতে বিভিন্ন-ধরনের বিধি নিষেধে শিথিলতা আনা হয়েছে।

রোববার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সেখানকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি না আসা পর্যন্ত করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্বসহ বিভিন্ন ধরনের নিয়ম-কানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্তব্য