করোনায় লোকসানে সিরাজগঞ্জের পোল্ট্রি খামারিরা

প্রজন্ম ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতিতে গণ-পরিবহন ও বাজার বন্ধ থাকায় সিরাজগঞ্জের পোল্ট্রি খামারিরা লোকসানে পড়েছেন।

ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি এবং ডিম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। গণ-পরিবহন ও বাজার বন্ধ থাকায় সেগুলো বিক্রি করতে পারছেন না। কেউ কেউ বিক্রি করতে পারলেও উৎপাদন খরচ উঠেছে না। ফলে বর্তমানে চলা অলাবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার পোল্ট্রিশিল্প।

সিরাজগঞ্জ প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় প্রায় আড়াই হাজার বয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে। আর হাঁসের খামার রয়েছে ১২শত ১০টি। এসব হাঁস-মুরগির খামার থেকে বছরে ৩০ কোটি পিছ ডিম ও ২ লাখ মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়ে থাকে। যা দেশে আমিষের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখে।

কিন্তু করোনার প্রভাবে মুরগি এবং ডিমের দাম নেমে এসেছে অর্ধেকে। প্রতিটি ডিমের দাম যেখানে ছিলো সাড়ে ৭টাকা সেটা এখন সাড়ে ৪টাকা। আবার পরিবহনের অসুবিধার কারণে জেলার বাইরে ডিম সরবরাহ করতে পারছেন না খামারিরা। ফলে বেকাদায় পড়েছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা। এঅবস্থা চলতে থাকলে পথে বসতে হবে তাদের। তাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তার কথা বলছেন এখানকার খামারিরা।  

প্রধানমন্ত্রীর পদক প্রাপ্ত সফল খামারি মাহফুজ রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে আমি লোকসানে আছি। ডিম ও মুরগি বিক্রি করতে পারছি না। আমার একটি সেডে ১১শ মুরগি ছিলো। অর্ধেক বিক্রি করতে পেরেছি আর অর্ধেক অসহায় মানুষের মাঝে দান করে দিয়েছি। ডিমের ব্যাপারী আগে যেখানে ১০ হাজার ডিম নিতেন এখন ৫ হাজার ডিম নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা রাস্তায় বের হতে পারছেন না। দোকার পাট বন্ধ। ডিম বিক্রি করবে কোথায়?’

সিরাজগঞ্জ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পোল্ট্রি খাতে ধস নেমেছে। জেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় আড়াই হাজার খামার আছে। এসব খামারে যে পরিমাণ ডিম উৎপাদন হয়, সেই তুলনায় বিক্রি হচ্ছে না। করোনার আগে একশ ডিম বিক্রি করতাম ৭৫০ টাকায়। এখন সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৮০ টাকায়। বিক্রি না থাকায় ডিমগুলো ঘরে থেকে পচে যাচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের এস.এ ফরিদ বলেন, ‘বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্প কঠিন মুহূর্তে দাঁড়িয়েছে। দোকান ও পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় মুরগি ও ডিম নিয়ে কষ্টে আছেন খামারিরা। উৎপাদন খরচই উঠছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে বন্ধ হয়ে যাবে সব খামার।

তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ তিনি যেন পোল্ট্রি শিল্পের উপর একটু নজর দেন। খামারিদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলে এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আখতারুজ্জামান ভূইয়া জানান, বর্তমানে খামারিরা ডিম বিক্রির জন্য বাজার পাচ্ছেন না। কারণ ভোক্তা কমে গেছে। বাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরবরাহের পথগুলো বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থা চলতে খাকলে খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাজার সচল রাখার চেষ্টা করছি।

মন্তব্য