তালিকায় চার অসহায়ের নাম, টাকা পেলেন ইউপি সদস্যের পরিবার

প্রজন্ম ডেস্ক

অসহায় মানুষের নাম তালিকা দেয়া হয়েছে ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বর। ঘটনাটি শনিবার ফাঁস হয়ে পড়লে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে যাচাই বাছাই চলছে। সকল ক্রুটি খুঁজে বের করে স্বচ্ছতার তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আড়াই হাজার টাকা সহায়তা প্রদানে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের চারজন অসহায় পরিবারের নামের সাথে ছয় নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীনের মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে তালিকায় থাকা ব্যক্তির নামের মোবাইলে নম্বরে এ সহায়তা পৌঁছে যাবে।

তালিকায় নাম থাকা অসহায় পরিবারের আনিছুর রহমান ও মোকবুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তা ২৫০০ টাকা দেয়ার কথা বলে তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন নেয় এক সপ্তাহ আগে। কিন্তু তারা জানতে পেরেছে তাদের মোবাইল নম্বর না দিয়ে ইউপি সদস্য তার ও তার পরিবারের মোবাইল নম্বর তালিকায় দিয়ে রেখেছেন।

ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি ঠিকমতো নামের সাথে তাদের মোবাইল নম্বর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যানের ভাই তামিম শত্রুতা করে চার ব্যক্তির নামের সাথে আমার মোবাইল নম্বর জুড়ে দিয়ে আমাকে হয়রানি করার পাঁয়তারা করছে।

ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই তামিম ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের আমি কেউ নই। আমি ইউনিয়ন পরিষদে যাই না। অথচ আমাকে দোষারোপ করছেন ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন।

এ বিষয়ে বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিমুন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তালিকা জমা দেয়ার পর ইউপি সদস্য জয়নালের মোবাইল নম্বর চারজনের নামের সাথে পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্য এর দায় এড়িয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপাতে পারেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম জানান, ইউপি সদস্য আমাকে বলেছে তিনি লেখাপড়া জানে না। শত্রুতা করে তার নম্বর দেয়া হয়েছে। কিন্তু তালিকায় অন্যের নামের সাথে তার নিজের, স্ত্রী ও ছেলের মোবাইল নম্বর রয়েছে। তিনি বলেন এখন সংশোধনের কাজ চলছে। আরও তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।

মন্তব্য