লিবিয়ায় খুন হওয়া যশোরের রাকিবুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

প্রজন্ম ডেস্ক

নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে চার মাস আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার খাটবাড়িয়া গ্রামের রাকিবুল ইসলাম (২০)। দালালের মাধ্যমে তিনি পাড়ি দেন লিবিয়ায়। কিন্তু দালাল চক্র লিবিয়ার একটি শহরে তাঁকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে।

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের লোকজন টাকা দিতে রাজিও হন। এরই মধ্যে খবর এল দালাল চক্র রাকিবুলকে গুলি করে হত্যা করেছে।

গৃহযুদ্ধকবলিত দেশ লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে বৃহস্পতিবার ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে খুন করা হয়। তাঁদেরই একজন এই রাকিবুল।

রাকিবুলের বড় ভাই সোহেল রানা বলেন, উন্নত জীবনের আশায় গত ১৫ ফেব্রূয়ারী দেশ ছেড়েছিলেন রাবিকুল। ভালো কাজের জন্য দালালের মাধ্যমে তাঁকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু শুরু থেকেই দালালেরা তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে।

পরে তাঁকে আটকে রেখে ১৭ মে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই টাকা দুবাই থেকে তারা নিতে চায়। ভাইয়ের মুক্তির জন্য ওই টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন তাঁরা।

আগামী ১ জুন পর্যন্ত তাঁদের কাছ থেকে সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারলেন না। তাঁর চাচাতো ভাই ফিরোজ ২৯ মে শুক্রবার সকালে লিবিয়া থেকে ফোন করে জানিয়েছেন, যে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তার মধ্যে রাকিবুলও রয়েছেন।

সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। লাশ কবে দেশে আসবে, তা–ও জানি না।ছেলের মৃত্যুর খবরে মা মাহিরন নেছা কাঁদতে কাঁদতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাক রুব্ধ হয়ে পড়েছেন পিতা ইসরাইল জোয়াদ্দার।

শনিবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে যেয়ে জানা যায়, রাকিবুল যশোর সরকারি সিটি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। রাকিবুলের চাচাতো ভাই ফিরোজ গত ৭/৮ বছর লিবিয়াপ্রবাসী।

চাচাতো ভাই লিবিযা যাবার পর পরিবারের স্বচ্ছলতা আসার কারনেই রাকিবুল লিবিয়া যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই ভাই লিবিয়ায় থাকা আব্দুল্লাহ নামে এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাকিবুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যান।

চার মাস আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে রাকিবুলকে লিবিয়ায় পাঠান পরিবারের লোকজন। চার ভাইবোনের মধ্যে রাকিবুল সবার ছোট। যে কারণে তাঁর মৃত্যুর খবরে মা-বাবা, ভাই-বোন মুষড়ে পড়েছেন। তাঁদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

নিহত বাকিবুলের বাবা ভাই এর এখন শেষ ইচ্ছা তারা নিহত রাকিরুলের লাশটি পেতে চান। দাফন করতে চান দেশের মাটিতে। এজন্য তারা সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন।

মন্তব্য