যশোর সদর ফাঁড়ির ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

যশোর সদর ফাঁড়ির ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

প্রজন্ম রিপোর্ট
গতকাল রাতে যশোর সদর ফাঁড়ির পুলিশ কোতয়ালি থানার পিছনে মাড়োয়াড়ি মন্দির পতিতা পল্লীতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০জনকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে রাত ১০টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়।
পতিতা পল্লীর যৌন কর্মীদের অভিযোগ বিগত কিছুদিন যাবৎ ফাঁড়ির ওসি মতিয়ার রহমান পতিতাপল্লীর তিন বাড়ির প্রতি বাড়ি থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ঘুষ দাবি করে আসছিলেন। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে মতিয়ার রহমানের বিরোধ চলছিলো।
এর সুত্র ধরে মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে বুধবার রাতে পুলিশ তিন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০জনকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। এরপর পতিতা পল্লীর কয়েকজন মহিলা ফাঁড়িতে গেলে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেবার শর্তে ওসি মতিয়ার রহমান জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। ওসির এই কথা শুনে পতিতারা ফিরে আসে। যৌন পল্লীর কয়েকজন বাসিন্দা বলেছেন এমনিতেই তাদের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। তারপর পুলিশের এই অত্যাচার তাদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘাঁ হয়ে দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখানে পুলিশের কোন অভিযান হয়নি। কারণ ফাঁড়ির বিভিন্ন দাবি দাওয়া তারা সাধ্যমত পূরণ করে থাকেন। কিন্তু মতিয়ার রহমান ফাঁড়িতে আসার পর তাদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এর থেকে পরিত্রানের দাবি করেছেন। এদিকে গতকাল রাতে সদর ফাঁড়ির সামনে গিয়ে দেখা আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা সেখানে ভিড় করেছেন। আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার শর্তে তাদের স্বজনদের কাছে মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করছে পুলিশ।
এব্যাপারে গতকাল রাত ১১টার দিকে সদর ফাঁড়ির ওসি মতিয়ার রহমানের ০১৭৫৫-৯২৯৬৮৯ মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য