গাইবান্ধায় ব্যাপক নদী ভাঙনের আশঙ্কা

প্রজন্ম ডেস্ক

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ব‌্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ‌্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০টি গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়ায় এলাকাবাসীর মাঝে দুশ্চিন্তা ভর করেছে।

প্রতিবছর নদী ভাঙন রোধে জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন আশ্বাস দেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেসব আশ্বাস আর সত‌্য হয় না। তাই নদী পাড়ের মানুষদের ভাগ্যেরও কোনো পরিবর্তন হয় না।

গাইবান্ধার সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, ও ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে প্রতিবছরেই বর্ষায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়।

স্থানীরা জানান, গত দুই বছরে নদী ভাঙনে গাইবান্ধার আবাদী জমি ঘরবাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অন্তত ৩০ হাজার পরিবার বিভিন্ন বাঁধ ও অন্যের জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে।

নদী পাড়ের বাসীন্দা মুজতবা বলেন, ‘ভাঙন প্রতিকারের আশায় স্থানীয় লোকজন মিলে মানববন্ধন করেছি। বার বার বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করতে আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু সেসব বৃথাই গেছে। নদীপাড়ের মানুষের ভাগ‌্যের উন্নয়ন হয়নি।’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া, হরিপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, লালচামার কাপাসিয়া, সদরের কামারজানি, দশআনি, ফারাজিপাড়া, ফকিরপাড়া, হাজিপাড়া, ফুলছড়ির কাতলামারী, এরেন্ডাবাড়ী, সাঘাটার হলদিয়া, হাট ভরতখালী, বল্লমতাইড়, গোবিন্দুপুর, নলছিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রাম ইতোমধ্যেই ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীতে পানিও এবং স্রোত দুটোই বেড়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জ থেকে কামারজানী পর্যন্ত তিস্তা নদীর ১৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ফুলছড়ি ও সাঘাটায় যমুনা নদীর ১৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও ১০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা থাকলেও করোনার কারণে তা পিছিয়ে গেছে। তবে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

মন্তব্য