আজ সাংবাদিক মুকুলের ২০ তম হত্যাবার্ষিকী

আজ সাংবাদিক মুকুলের ২০ তম হত্যাবার্ষিকী

প্রজন্ম রিপোর্ট

হত্যার ২০ বছর পার হলেও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়নি সাংবাদিক মুকুল হত্যা মামলা। স্বজন আর সহকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এ মামলার বিচার দাবি করে আসছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। একজন আসামির হাইকোর্টে করা অব্যাহতির আবেদনের নিষ্পত্তি প্রতিবেদন না পাওয়ায় থমকে আছে মামলার বিচারিক কাজ। দুই বছর আগে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে বদলি হয়েছে। তবে হাইকোর্টের প্রতিবেদন না পাওয়ায় সেখানেও এগোনো যাচ্ছে না।
স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) দফতর জানায়, এ মামলায় অব্যাহতি চেয়ে অন্যতম আসামি ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিক ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করেন। ওই আসামি উচ্চ আদালতে যাওয়ায় মুকুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালত ফারাজী আজমল হোসেনের অংশ বাদ রেখে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ফারাজী আজমল হোসেনের হাইকোর্টে করা অব্যাহতির আবেদনের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আদেশ সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয় তার আইনজীবীকে। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও হাইকোর্টের কোনো আদেশ আদালতে এসে পৌঁছায়নি। আশা করা হচ্ছে, হাইকোর্টের আদেশ পেলে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শেষে এ মামলার রায় হবে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলালউদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের ২৩ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ ২২ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। একপর্যায়ে আইনি জটিলতার কারণে বিচারিক কার্যক্রম থমকে যায় এবং চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি হাইকোর্ট থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি’র এএসপি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন করে আরও দু’জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন।

গত ১৫ জুন যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল (তৃতীয়), অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালত ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাংবাদিক মুকুল হত্যা মামলার বিচার শুরু করেন। এ সময় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার দায় থেকে আসামি তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও রূপমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০১০ সালে মামলার ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতে। সেখান থেকে দুই বছর মামলাটি যশোরের বিশেষ জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে সাংবাদিক সাইফুল আলম মুকুল হত্যাকান্ডের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে যশোর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহন করেছে। গৃহিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোক র্যালি, কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চিরুণিকলের সামনে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন সাংবাদিক মুকুল। পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আকতার শিরিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে যশোরের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলাটি করেন।

মন্তব্য