চৌগাছায় ভিজিএফের চাল আত্মসাতের ঘটনা মামলা হয়নি ১৩ দিনেও : মূল হোতাদের বাঁচাতে চলছে জোর তদবির

চৌগাছায় ভিজিএফের চাল আত্মসাতের ঘটনা মামলা হয়নি ১৩ দিনেও: মূল হোতাদের বাঁচাতে চলছে জোর তদবির

প্রজন্ম রিপোর্ট

যশোরের চৌগাছায় ঈদ উপলক্ষে গরীব দুস্থদের নামে বরাদ্ধকৃত ভিজিএফ এর চাল আত্মসাতের ঘটনা তদন্তের নামে আড়ালের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। ঘটনার মূল হোতা থেকেই যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। ঘটনার দিন এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িতদের নাম শোনা গেলেও দিন দিন সেই নাম হারাতে বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের নামে প্রকৃত ঘটনা পাশ কাটিয়ে আড়াল করবার জন্য চলছে জোর তদবির এমন গুঞ্জন এখন চৌগাছাবাসীর মুখে মুখে। ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য চলছে ব্যাপক দৌঁড়ঝাপ।

ঘটনার ১৩দিন অতিবাহিত হলে আজও পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। এ ধরনের ঘটনার সাথে যেই জড়িত তার বিরুদ্ধে যদি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা না হয় তাহলে এমন অপরাধ অহরোহ ঘটবে বলে মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।

সূত্র জানায়, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ এর মাধ্যমে সারা দেশে গরীব দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে মাথাপিছু ২০ কেজি করে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ঈদের আগেই শুরু হয় চাল বিতারণ। এ বছর ঈদুল আযহার আগে গোটা উপজেলা ও পৌরসভা মিলে মোট ৪৯ হাজার ৮শ ১৬ জন কার্ডধারীর মাঝে ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩শ ২০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়।

গত ১৭ আগষ্ট উপজেলার ২নং পাশাপোল ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজসহ স্থানীয় নেতাকর্মি এবং সাধারণ জনগনের উপস্থিতিতে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। উদ্বোধনের দিন হতেই পাশাপোল ইউনিয়নে ৪ হাজার ২শ ৮৮ জন কার্ডধারীকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, চেয়ারম্যান তার ইউনিয়নের সর্বোচ্চ ২ হাজার জনের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করেন। বাকি কার্ড তিনি বিতরণ না করে রেখে দেন নিজের কাছে। ২০ আগষ্ট রবিবার সন্ধ্যায় নিজের কাছে রাখা কার্ডের সমুদয় চাল তার আপনজন বলে পরিচিত চাতাল ব্যবসায়ী পাশাপোল বাজারের শিমুলের চাতালে আলমসাধু ভর্তি করে পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিপাকে পড়ে যান তিনি। একপর্যায় তিনি সরকারী বস্তা পরিবর্তন করে সাদা বস্তায় চাল ভর্তি করে চৌগাছা বাজারের উদ্যেশ্যে পাঠিয়ে দেয়।

রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর নিউমার্কেট নামক এলাকায় দুই আলমসাধু বোঝাই চাল পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্ধেহ হয়। এ সময় তারা আলমসাধু চালককে চ্যালেঞ্জ করে। একপর্যায় প্রমানিত হয় সমুদয় চাল সরকারী ভিজিএফের। মুহুর্তেই তারা খবর দেয় চৌগাছা থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আকিকুল ইসলাম সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, খবর পেয়ে ওই রাতেই যশোর জেলা প্রশাসকের পক্ষে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছুটে আসেন চৌগাছায়। তিনি বিভিন্ন স্থানে এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক খোঁজখবর নেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, চেয়ারম্যান যে ২ হাজার কার্ডধারীকে ভিজিএফের চাল দিয়েছেন সেখান থেকেও ৩ থেকে ৪ কেজি চাল কম দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তিনি ১শ বস্তার উপরে চাল আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজের সাথে কথা বল্লে তিনি জানান, এটি একটি ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না। একটি পক্ষ আমাদেরকে বিপাকে ফেলতে এ ধরনের কাজ করেছেন। কার্ড ও চাল বিতরণে কোন অনিয়ম করা হয়নি। ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে তাই এর চেয়ে বেশি কিছু আমার বলার নেই।

এদিকে ঘটনার প্রায় ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও আজও কোন মামলা হয়নি। থানা হেফাজতে থাকা চাল ওই অবস্থায় পড়ে আছে। তদন্তের নামে শুধুমাত্র কালক্ষেপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তাহলে কি তদন্ত হচ্ছে আর কেনই বা ১৩ দিনে কোন মামলা হলোনা এনিয়ে সর্ব মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। অনেকে মন্তব্য করেন তাহলে উপরের লম্বা হাতের কারনে এমন একটি জঘন্য অপরাধ কি তদন্তের নামে ধামাচাপা পড়ে যাবে? প্রকৃত ঘটনাটি দ্রুত জনসম্মুখে প্রকাশ করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

এ বিষয়ে ঘটনার দিন চাল জব্দকারী চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার আকিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলছে এখনও কোন মামলা হয়নি। তদন্ত শেষে বিষয়টি পরিস্কারভাবে জানানো যাবে।

মন্তব্য