কপিলমুনিতে ফের মাদকের ছড়াছড়ি

কপিলমুনিতে ফের মাদকের ছড়াছড়ি

রফিকুল ইসলাম খান, কপিলমুনি

আধুনিক কপিলমুনির রূপকার রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর এতিহ্যবাহী বানিজ্যিক নগরী কপিলমুনি এখন মাদকদ্রব্যে সয়লাব হয়ে গছে। মাদকের ভয়াল ছোবলে কপিলমুনি তার এতিহ্য হারাতে বসেছে। কতিপয় চিহ্নিত অসাধু ব্যাক্তির কারিশমায় মাদকদ্রব্য আমদানী ও রফতানী হলেও প্রশাসনের কোন মাথাব্যাথা নেই। পুলিশের ও স্থানীয় কিছু বখাটে যুবকের সাথে মাসিক চুক্তির বিনিময়ে নির্বিগ্নে চালাতে সাহায্য করছে মাদকের সাথে যুক্ত অসাধু চক্রের অপতৎপরতা। ফলে কপিলমুনি সদর ও কাশিমনগর,প্রতাকাটি,মামুদকাটি সহ আশে-পাশের কয়েকটি গ্রামে যত্রতত্রই দেখা মিলছে ফেনসিডিলের পড়ে থাকা খালি বোতল। এতে করে একদিকে যেমন যুবসমাজের চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে তেমনই কপিলমুনি তার এতিহ্য হারাতে বসেছে।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এতিহ্যবাহী উপশহর কপিলমুনি খুলনা জেলার সর্ববৃহৎ বানিজ্যিক মোকাম। যে মোকামের বাজার দর নির্ধারণের উপর নির্ভর করে খুলনা জেলার বাজার দর। আর এর সুনাম সুখ্যাতি রয়েছে সর্বাগ্রে। কিন্তু বর্তমানে কপিলমুনি মাদকের ভয়াল ছোবলের কবলে পড়ে অতীত এতিহ্য হারাতে বসেছে। আর এই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্তাব্যাক্তি ও কিছু রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি পুলিশের সাথে সখ্যতা এলাকার কিছু বখাটে যুবকদের দ্বারা। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, প্যাথিডিন, এ্যালকোহাল ব্যবসা করে শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে প্রভাবশালী বা মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবকরা সরাসরি ফেনসিডিলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে।

এলাকার বালুর মাঠ, কালীবাড়ীঘাট, শ্রীরামপুর সাহাপাড়া রোড, কলেজ লেক, পালপাড়া রোড, কাশিমনগর ও প্রতাপকাটী,মামুদকাটি,কাজিমুছা এলাকায় বিভিন্ন খোলা স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা ফেনসিডিলের খালি বোতল দেখে সহজে বোঝা যায় যে, ফেনসিডিল তথা মাদকের ভয়াবহতা কতটাই প্রকট। শুধু তাই নয়, এই মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষক সহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। সূত্র জানায়, ফেনসিডিলের সাথে সম্পৃক্ত যুবকদের সাথে মাঝে মধ্যে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য থেকে মাসোয়ারা খেকো এলাকার বখাটে যুবকদের সখ্যতা ও মেলামেশা করতে দেখাযায়।

আর এ সুযোগে মাদক বিক্রেতারা দীর্ঘদিন যাবৎ বাজারের অলি-গলিসহ আশে-পাশের কয়েকটি গ্রামে মাদক বিক্রি করে আসছে। বর্তমানে উল্লেখিত স্থান গুলোতে এর ভয়াবহতা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে স্কুল কলেজ পড়–য়া সহ যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। এতে করে অভিভাবক মহলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। বেড়েছে এলাকায় চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

এ ব্যাপারে খুলনা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকার অভিভাবকসহ সচেতনমহল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি খুলনা ডিবি পুলিশ কর্তৃক কপিলমুনি এলাকায় মাদকের উপর বিশেষ অভিযানের সময় মাদকের তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্যসহ আটক হলেও তাদের রক্ষিত মাদক ভান্ডার এখন নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের সতীর্থরা।

আর এর সাথে যুক্ত রয়েছে স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশের কিছু অসাধু কর্তারা। প্রশাসনকে মাসোয়ারার মাধ্যমে এক প্রকার জিম্মি করে তারা নির্বিগ্নে আবারো কপিলমুনিতে মাদকের ছয়লাব করে ফেলেছে বলে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দাবী করেছে। তাদের প্রশ্ন , কপিলমুনি সদরের পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্বেও কপিলমুনি থেকে প্রায় ৫৪ কিঃ মিঃ দূরে অবিস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টিম খুলনা ডিবি পুলিশ এসে এলাকা থেকে মাদক উদ্ধার করলেও স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশের কেন মাদকদ্রব্য উদ্ধারে এত ব্যর্থতা এটা আমাদের বধ্যগম্য নই।

এমতাবস্থায় এলাকার জনসাধারণ স্থানীয় ফাঁড়িতে দীর্ঘদিন চাকুরীরত পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলী পৃর্বক এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ফিরয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরী হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য