দিনে ক্রেতা নেই, বেশি সময় দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

প্রজন্ম ডেস্ক

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো রাজধানীসহ দেশের দোকানপাট ও শপিংমলগুলো। সরকার ঈদের আগে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত এই সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

গত ১৫ জুন আবারও জানানো হয়, করোনাভাইরাসে সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আগের নিয়মেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিংমলগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এমন নির্দেশনা বহলা থাকবে ৩০ জুন পর্যন্ত। আর এই নির্দেশনায় অনেক সাধারণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখলেও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। যার জন্য লসের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।

কথা হয় রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহসান হোসেনের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত দোকান খোলার নির্দেশনা দিয়েছে। আমরাও সেই নির্দেশনা মেনেই দোকান খোলা রাখছি। কিন্তু ক্রেতার দেখা পাচ্ছি না।

ক্রেতা কেন আসছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক ক্রেতা রয়েছেন, যারা বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। বিকেল ৪ টায় দোকান বন্ধ হওয়ার কারণে তারা আসতে পারছেন না, আর আমরা বিক্রিও করতে পারছি না।

অপর এক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে এখন মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। সবাই চেষ্টা করছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও বাসা থেকে বের না হতে। তবে আমি বলবো, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দোকান খোলার যে নিয়ম করেছে, তাতে করে কি করোনার সংক্রামন রোধ করা যাবে? এমনতো না যে, করোনা সন্ধ্যায় বা রাতে ছড়ায় না।

তিনি বলেন, আমরা সবাই সরকারের দেওয়া সকল নিয়ম মেনেই দোকান খুলছি। তাই আমি অনুরধ করবো আর একটু বেশি সময় যেন দোকান বা মার্কেট খোলা রাখা যায়। তাতে আমাদের একটু বেচাবিক্রি বেশি হতে পারে।

রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের এক ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, মার্কেট খোলার শুরু থেকেই প্রবেশমুখে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শপিং মলে আসা যানবাহনকে আমাদের মার্কেটের কর্মীরা জীবাণুমুক্ত করছে।বেচাকেনার সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। সব কিছুই যথাযথভাবে পালন করছি আমরা।

তিনি বলেন, সরকার আবারো নতুন প্রজ্ঞাপনে আগের নিয়মেই মার্কেট খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সরকারের সব নির্দেশনাই মেনে চলবো। কিন্তু আর একটু বেশি সময় মার্কেট খোলা রাখা গেলে হয়তো বিক্রি একটু বেশি করা যেতো। করোনার কারনে এমনিতেই ক্রেতা পাচ্ছিনা। খুব খারাপ একটা সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, গত ১৫ জুন সরকার নতুন করে আবারও দোকানপাট শপিংমল খোলার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে। আগের নিয়মেই চালু রাখতে বলেছেন। আমাদের ব্যবসায়ীরাও সেই নিয়ম মেনে চলছে। তবে করোনার কারনে ক্রেতা একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসে বসে অলস সময় পার করছেন।

তিনি বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীরা আমাদের বলেছেন আর একটু বেশি সময় মার্কেট খোলা রাখা যায় কিনা সেই বিষয়ে দেখতে। আসলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আজকেও চার হাজারের অধিক আক্রান্ত হয়েছে। তাই আমি বলবো আমরা কোন ঝুঁকি নিতে চাইনা। এই সংকট একদিন থাকবে না। আসা করি ঠিক হয়ে যাবে। তাই এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কিছু বেশি লাভের আসায় আমরা নিজেদের ও ক্রেতাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাইনা।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, হাটবাজার, দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলগুলো আবশ্যিকভাবে বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

মন্তব্য