না ফেরার দেশে সাবেক মেয়র ও সাংবাদিক তাজুল ইসলাম

প্রজন্ম ডেস্ক

লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র, বিশিষ্ট সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক তাজুল ইসলাম মারা গেছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে আইসিইউতে মারা যান। সে লামা পৌরসভার রাজবাড়ি এলাকার মৃত হাকিম আলী বড় ছেলে। ১৯৭৭ সালের ১লা মে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর।

তার বড় ছেলে ওমর ফারুক সুমন জানিয়েছেন, শারীরিক নানা রোগে ভুগছিলেন তাজুল ইসলাম। তিনি বেশ কিছুদিন যাবৎ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ঠ সহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ১৪ জুন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম নেয়া হয়। প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে গত ১৮ জুন সকালে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউতে রেফার করা হয়। এদিকে ১৭ জুন ২০২০ইং তাজুল ইসলামের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

তাজুল ইসলাম মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়েসহ অসংখ্য সহযোদ্ধা, সহকর্মী, ভক্ত, গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি লামা পৌরসভার ১ম পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কমিশনার, পরে ২০০৮-০৯ সালে দুইবছর ভারপ্রাপ্ত মেয়র এর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি প্রথম আলো, আজকের কাগজ সহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেন। একাধারে তিনি দীর্ঘদিন লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে অফিস সহায়কের চাকরিরত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ লামা পৌর শাখায় দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তাজুল ইসলামের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উসৈশিং এমপি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবু ক্য শৈ হ্লা পৃথক পৃথক বার্তায় শোক জানিয়েছেন। লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাথোয়াইচিং মার্মা, লামা পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম সহ উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীরা তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকে ভেঙ্গে পড়েন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম হতে এ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ রাজবাড়িস্থ নিজবাড়িতে পৌঁছার কথা রয়েছে। তার জানাযা নামাজ আজ শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৯টায় বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য