করোনা সংক্রমণে গরম পানির ভাপ নেবেন যেভাবে

প্রজন্ম ডেস্ক

করোনা সংক্রমণের বিস্তার থেমে নেই, কারণ এখনো পর্যন্ত কার্যকর টিকা অথবা ওষুধ উদ্ভাবন সম্ভব হয়নি। মহামারির এ সময়ে আমরা নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে ফেস মাস্ক ব্যবহার করছি, হাতে স্যানিটাইজার প্রয়োগ করছি, সাবান-পানিতে ঘনঘন হাত ধুচ্ছি, পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছি, অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে যাচ্ছি, নিয়মিত শরীরচর্চা করছি, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অন্যান্য পরামর্শ মেনে চলছি।

এছাড়া ফেসবুকে অথবা মুখেমুখে আরো অনেক পরামর্শ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পরামর্শের কোনটা যে কার্যকর, আবার কোনটা যে অকার্যকর তা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। কোনো একটা বিষয়ে নিশ্চিত হতে গেলে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তেমন একটা পরামর্শ হচ্ছে, গরম পানির ভাপ নেয়া (স্টিম ইনহেলেশন)। সাধারণত ফ্লু ও সাইনুসাইটিসের মতো সমস্যায় গরম পানির ভাপ নেয়া হয়। বলা হচ্ছে, করোনা সংক্রমণেও গরম পানির ভাপ নিলে উপকার হতে পারে।

গরম পানির ভাপ গ্রহণ হচ্ছে একপ্রকার হিট থেরাপি। এটা নতুন নয়। অনেককাল আগে থেকে এই থেরাপির চর্চা চলে আসছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণে গরম পানির ভাপ নিলে কতটা উপকার হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। করোনা রোগী গরম পানির ভাপ নেবেন কিনা বিবেচনা করার কিছু কারণ রয়েছে।

* করোনাভাইরাস ফুসফুসকে সংক্রমিত করে, যেখানে এটি প্রতিলিপি তৈরি করে ও বসতি গড়ে। গরম পানির ভাপ সরাসরি ফুসফুসকে টার্গেট করে।

* ব্রঙ্কির মধ্য দিয়ে গরম পানির ভাপ যাওয়ার সময় কিছুটা তাপমাত্রা কমলেও যতটুকু অবশিষ্ট থাকে তা করোনাভাইরাসকে ধ্বংস অথবা দুর্বল করতে পারে। ভাপে যে তাপমাত্রা থাকে তা করোনাভাইরাসের সারফেস প্রোটিনকে ধ্বংস করতে যথেষ্ট হতে পারে।

* এই থেরাপিতে করোনাভাইরাস ধ্বংস না হলেও সংক্রমণ প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। এর ফলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে বেশি সময় পাবে ও অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। শেষপর্যন্ত জীবন রক্ষা পাবে।

* গরম পানির ভাপে কেমিক্যাল থাকে না বলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কিশোর থেকে বয়স্ক মানুষ সকলেই এই থেরাপি চর্চা করতে পারবেন। কিন্তু শিশুদেরকে গরম পানির ভাপ নেওয়ানোতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে।

গরম পানির ভাপ নেবেন যেভাবে
স্টিম থেরাপি কঠিন কিছু নয়। প্রথমে পানিকে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। এরপর বাটিতে ঢেলে মুখমণ্ডলকে সরাসরি গরম পানির ওপর রাখুন। এসময় সতর্ক থাকতে হবে যেন মুখমণ্ডল গরম পানির সংস্পর্শে না আসে। উভয়ের মধ্যে ৫-৬ ইঞ্চি দূরত্ব নিশ্চিত করুন। আশপাশে যেন শিশু না থাকে, তারা আপনাকে ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে অথবা নিজেরাই দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। মাথার ওপর একটি তোয়ালে ধরে রাখুন। এবার নাক দিয়ে জোরে জোরে ভাপ টানতে থাকুন, যেন তা ফুসফুসে পৌঁছে করোনাভাইরাসকে বিপর্যস্ত করতে পারে। আপনি চাইলে কেটলিতে পানি গরম করে রোল করা কাগজ অথবা পুরনো এক্সরে ফিল্মের মাধ্যমেও নাক দিয়ে ভাপ নিতে পারবেন। অসহনীয় গরম মনে হলে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার ভাপ নিতে পারেন। প্রতি সেশনে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি নয়।

মন্তব্য