অর্থ ফেরতসহ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের এমডিকে গ্রেফতারের দাবি

প্রজন্ম ডেস্ক

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহীদ উল্লাহকে গ্রেফতা‌র ও আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দেওয়ার দা‌বি‌তে বিক্ষোভ ক‌রে‌ছেন বি‌নি‌য়োগকারীরা।

বৃহস্প‌তিবার (২৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্ট‌নে অবস্থিত ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রধান কার্যাল‌য়ে বাংলা‌দেশ পুঁ‌জিবাজার বি‌নি‌য়োগকারী ঐক্য প‌রিষ‌দের নেতৃ‌ত্বে বি‌নি‌য়োগকারীরা এ বি‌ক্ষোভ কর্মসূ‌চি পালন করেন।

এ সময় ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বি‌নি‌য়োগকারীরা অভি‌যোগ ক‌রে ব‌লেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ।  তারা টাকা দেওয়ার নাম করে চেক দিয়েছে এবং সেই চেক জমা দিতে গেলে জানা যায় অ‌্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদি অতি দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তবে বিনিয়োগকারীরা সিকিউরিটিজ হাউজের ওপর পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

এ বিষয়ে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী নাজির আহমেদ  বলেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে আমার ১ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। গত তিন বছর আমি কোনো শেয়ার বিক্রি করিনি। ২২ জুন আমি শেয়ার কেনার জন্য তাদের কাছে টাকা জমা দেই। কিন্তু তারা  আমাকে কোনো মানি রিসিট দেয়নি। মানি রিসিট চাওয়ার পরেও তারা তা দেয়নি। তখন আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তারপর গত ২৩ তারিখে এসে অফিস বন্ধ পাই। তবে আমার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হলো, কিন্তু সিডিবিএল থেকে কোনো ম্যাসেজ পেলাম না। নিশ্চয়ই এর সঙ্গে সিডিবিএল জড়িত রয়েছে। এটা তদন্ত করে দেখা উচিত।

এদিকে নারী বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকার হাসিনা মর্তুজা  বলেন, আমি আইপিও শেয়ারে বিনিয়োগ করেছি। তাদের কাছে আড়াই লাখ টাকার মতো পাওনা রয়েছে। প্রথম যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় তার আগে আমাকে চেক দেয়, কিন্তু আমি চেক জমা দিলে সেটা বাউন্স হয়ে যায়। পরবর্তীতে সাধারণ ছুটির পর অফিস খুললে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আমাকে টাকা দিয়ে দেবে বলে শুধু সময় নিতে থাকে। এরপরেও তাদের দেওয়া আরও দুটি চেক ডিজঅনার হয়ে যায়। পরে গত মঙ্গলবার জানতে পারি অফিস বন্ধ করে দিয়ে তারা পালিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রতারণার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদি অতি দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তবে বিনিয়োগকারীরা সিকিউরিটিজ হাউজের ওপর পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলবে। হাউজগুলো থেকে টাকা তুলে নেবে। এতে করে বাজারে কালো সংকট বড় আকার ধারণ করবে।

মন্তব্য