হ্যান্ডরাবে নেই উপাদান, এক সপ্তাহে বাজারে গেছে ২ লাখ পিস

প্রজন্ম ডেস্ক

নীল রং, লেবুর ফ্লেভার, স্পিরিট আর জেল মিশিয়ে বোতলজাত করে বাজারে ছাড়া হচ্ছিলো কার্যকর উপাদানহীন হ্যান্ডরাব। উৎপাদনকারীর নেই ড্রাগ লাইসেন্সও।  জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় অত্যন্ত ক্ষতিকর এসব হ্যান্ডরাব মজুত ও বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর উত্তর রায়েরবাগ থেকে।

গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তর রায়েরবাগে কাজি ম্যানুফ্যাকচার নামে প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখান থেকে লক্ষাধিক হ্যান্ডরাব জব্দ করার পর ওই প্রতিষ্ঠানের তিনজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও একজনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু।  অভিযানে সহযোগীতা করে র‌্যাব-১০ ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

পলাশ বসু জানান, ওই প্রতিষ্ঠান ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে অনুমতি না নিয়ে হ্যান্ডরাব তৈরি করছিল।  হ্যান্ডরাবে নীল রং, লেবুর ফ্লেভার, স্পিরিট আর জেল ব্যবহার করে বোতলজাত করে বাজারে ছাড়ে।  কিন্তু যে মূল উপাদান ক্লোরোহ্যাক্সিডাইন গ্লোকোনেট বিন্দুমাত্র ছিল না। যে হ্যান্ডরাব তৈরি করে সে পঞ্চম শ্রেণি পাস। অভিযানে এক লাখেরও বেশি হ্যান্ডরাব কারখানায় পাওয়া গেছে। এগুলোর বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

পলাশ বসু বলেন, অভিযানে কারখানায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি না থাকা, নকল হ্যান্ডরাব উৎপাদন, মজুত ও বাজারজাত করার জন্য ওষুধ আইনে কাজি ম্যানুফ্যাকচারের প্রোপাইটার মো. কাজি মুন্না, মো. শান্ত, সাব্বির সরদারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  অবৈধ এসব কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় আব্দুল মান্নান ভূঁইয়াকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারখানা থেকে হ্যান্ডরাব ও তৈরির উপাদান জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহেও এ কারখানা থেকে দুই লাখেরও বেশি বোতল হ্যান্ডরাব তারা বাজারজাত করেছে।  তারা মূলত পুরান ঢাকা থেকে বোতল সংগ্রহ করে ও মিটফোর্ড এলাকা থেকে সিল করিয়ে আনে।

মন্তব্য