স্কটল্যান্ডের এই সেতু কুকুরদের ‘সুইসাইড’ স্পট !

স্কটল্যান্ডের এই সেতু কুকুরদের ‘সুইসাইড’ স্পট !

প্রজন্ম ডেস্ক

স্কটল্যান্ডের ডাম্বারটন শহরে ১৫০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় ‘ওভারটন ব্রিজ’। এই সেতু ঘিরে আছে নানান রহস্য ।
জীবনের নানা বাঁকে খেই হারিয়ে মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন। এটা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আছে। শুনে অবাক হওয়ার মতো, স্কটল্যান্ডে শুধুমাত্র মানুষ নয় কুকুরও আত্মহত্যা করে। তাও যেখানে সেখানে নয়, শুধুমাত্র একটি ব্রিজের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে কুকুরগুলো আত্মহত্যা করে। মানুষের আত্মহত্যার কারণ কোনো একসময় হয়তোবা জানা যায়।

তবে কুকুরের এই আত্মহত্যা করা নিয়ে লোকমুখে নানা ধরনের কথা রয়েছে। তবে কোনটি যে সত্য তা নিয়ে রহস্যের কোনো শেষ নেই।

যে স্থানটিতে এই ব্রিজটি অবস্থিত সেটি হল স্কটল্যান্ডের ডাম্বারটন শহর। এই শহরেই ১৫০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় ‘ওভারটন ব্রিজটি’। তবে এখন আর এই ব্রিজটির নাম ‘ওভারটন’ নেই। এখন মানুষ এই ব্রিজটিকে ‘ডগ সুইসাইডাল ব্রিজ’ নামেই চেনে। এ ঘটনা এক-দু দিনের নয়। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে চলে আসছে কুকুরদের এই আত্মহত্যা করার ঘটনাটি। গত পঞ্চাশ বছরে প্রায় ৫০টি কুকুর ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ব্রিজের নিচে কোনো পানি নেই। কুকুরগুলো যেখানটাতে লাফিয়ে পড়ে সেখানটা পাথর।

সেখানকার লোকমুখে এই ঘটনা শুরুর দিক সম্পর্কে যে জনশ্রুতি রয়েছে তা হলো আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে ১৯৯৪ সালে কেভিন ময় নামক এক অধিবাসী তার শিশুপুত্রকে এই ব্রিজের উপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। এর কারণ তার শিশু পুত্রটি নাকি ধর্মবিরোধী ছিল। শিশু পুত্রকে ফেলে দেওয়ার পর সে নিজেও ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কেভিন ময় বেঁচে যান। এরপর থেকেই নাকি ব্রিজটি অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে।

আবার কারো কারো কাছে এর কারণটা ভিন্ন। তাদের মতে অতিপ্রাকৃত শক্তি ও মহাজাগতিক কোনো কিছু এই জন্য দায়ী। এর কারণ এই ব্রিজটি এমন জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে স্বর্গের দরজার দূরত্বটা খুব বেশি নয়। এর বাইরেও পশুপাখি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ শেফাড মনে করেন, কুকুরের আত্মহত্যার পেছনে সাইকোসিস নামক একটি মানসিক রোগ হতে পারে।

তাই বলে এই একটি মাত্র ব্রিজ থেকে এবং একটি মাত্র দেশে কেনো এই ঘটনা ঘটবে? এ ধরনের নানা মতবাদের জন্য এর সঠিক কারণটি এখনও সকলের অজানা। এদিকে কুকুরের আরেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ডেভিড স্যান্ড তার কুকুর হেনন্ড্রিক্সকে কে নিয়ে এই ব্রিজটি পরিদর্শনে যান। স্যান্ড যখন তার কুকুরটিকে নিয়ে ব্রিজটি পার হওয়ার হচ্ছিলেন ঠিক তার শেষ মুহুর্তে এসে তার কুকুরের মধ্যে অস্বাভাবিক চাঞ্চল্যতা লক্ষ্য করেন। পরবর্তীতে তিনি এর কারণ হিসেবে বলেন, কুকুরদের দর্শন ও ঘ্রাণশক্তি অনেক বেশি।

ব্রিজটি পার হওয়ার সময় তার কুকুরটি এমন কিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন যার কারণে কুকুরটি এরকম আচরণ করেছিল। সবকিছু মিলিয়ে এক অজানা রহস্যই থেকে গেল কুকুরদের এই আত্মহত্যার বিষয়টি।

মন্তব্য