‘মেসি-রোনালদোকে এক করলে পেলের সমতুল্য হবে’

প্রজন্ম ডেস্ক

১৯৫৮ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের প্রথম শিরোপা আসে জাদুকরী পেলের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের বদৌলতে। এরপরের আরও তিন বিশ্বকাপের মধ্যে ব্রাজিল তুলে নেয় আরও দুটি শিরোপা। ১৯৭০ সালের ২১ জুন ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের দখলে নেয় তৃতীয় শিরোপা। আর পেলের সঙ্গী ব্রাজিলিয়ান সাবেক ফুটবলার তোস্তা সেবারই প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বাদ পায়।

১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ জয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে ফিফাকে এক সাক্ষাৎকার দেন সেই বিশ্বকাপে ২ গোল করা তোস্তা। এই সময় তাকে মুখোমুখি হতে হয় সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? এমন প্রশ্নের সামনে। তোস্তা ঝুঁকে গেলেন নিজ সতীর্থের দিকে। জানালেন, তাঁর চোখে সর্বকালের সেরা পেলে-ই। আর বললেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর খেলোয়াড়ি মানের যোগফল ছিলেন পেলে।

৭০ সালের মেক্সিকোর সেই ফাইনালে গোল পেয়েছিলেন পেলে। টুর্নামেন্টেও ব্রাজিল এই কিংবদন্তি করেছিলেন ৪ গোল। সে থেকে সর্বকালের সেরা প্রশ্নে পেলে ছিলেন সবার চেয়ে উপরে। তবে এরপরে ডিয়েগো ম্যারাডোনা চলে আসেন সেই তর্কযুদ্ধে। আর বর্তমান সময়ের মেসি-রোনালদো তো এখনও নিজেদের প্রমাণ করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।

তোস্তাওয়ের কাছে তাই সবাইকে টেনে নিয়ে প্রশ্ন ছোড়া হয়। বছরের পর বছর ধরে পেলের সঙ্গে ম্যারাডোনা, রোনালদো ও মেসির তুলনা চলছে। আপনি কি মনে করেন, পেলে সর্বকালের সেরা?

এর উত্তরে ৭৩ বছর বয়সী তোস্তা বলেন, ‘আমি মনে করি, এই তিন জনের চেয়ে পেলে ভালো ছিল। তাদের তুলনায় পেলে আরও বেশি পরিপূর্ণ ফুটবলার ছিল। একজন ফরোয়ার্ডের যে গুণগুলো থাকতে পারে, তার সবই পেলের ছিল। তাঁর কোনো খুঁত ছিল না।’

এরপরই পেলের সঙ্গে বাকিদের তুলনা টেনে আরও যোগ করেন, ‘ম্যারাডোনার ফুটবল ছিল দৃষ্টিনন্দন, কিন্তু শারীরিকভাবে সে পেলের পর্যায়ের ছিল না। পেলে যত গোল করেছে, তত গোল সে করেনি। মেসি দারুণ, কিন্তু পেলের মতো হেড দিতে পারে না। দুই পায়ে শট নিতে পারে না, পেলে যেভাবে মুভ করতে পারত, সেটা পারে না। রোনালদো ব্যতিক্রমী একজন খেলোয়াড়। কিন্তু পেলের যে সামর্থ্য ছিল, সেটা রোনালদোর নেই। পেলে যে অবিশ্বাস্য পাস দিতে পারতো, সেটা সে পারে না।’

এরপর অনেকটা মজার ছলে পেলে কোন পর্যায়ের ফুটবলার সেটা বুঝাতে গিয়ে বলেন, ‘মেসি ও রোনালদোর মান এক করলে যে খেলোয়াড়টি পাওয়া যাবে, তার সঙ্গে পেলের তুলনা করতে পারেন।’

মন্তব্য