সূর্যকে ছুঁতে রওনা !

সূর্যকে ছুঁতে রওনা !

প্রজন্ম ডেস্ক

নাসার মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’ রওনা হল সূর্যকে ছুঁতে যাবে বলে।
এই প্রথম কোনও মহাকাশযান পৌঁছবে সূর্যের পিঠ থেকে ৪০ লক্ষ মাইলেরও কম দূরত্বে। এটা একটা চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা। আর ২ থেকে ৪ বছরের মধ্যে নাসার ওই মহাকাশযান ঢুকে পড়বে সূর্যের বায়ুমণ্ডলের একেবারে বাইরের স্তর বা, ‘করোনা’র মধ্যে। যার তাপমাত্রা ১০ লক্ষ বা তারও কিছু বেশি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের পিঠের (সারফেস) তাপমাত্রা তার কাছে কার্যত, নস্যি! মাত্র ৬ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সেই কারণটা হল, পৃথিবী আর শুক্র গ্রহের জোরালো অভিকর্ষ বলের টান এড়িয়ে সূর্যের কাছাকাছি যাওয়াটা মোটেই খুব সহজ কাজ নয়। তার জন্য বিশেষ প্রযুক্তির প্রয়োজন। আর সেই প্রযুক্তিটা এত দিন আমাদের হাতে ছিল না। সেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই এ বার সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সূর্যের এত কাছাকাছি পৌঁছতে পারছে পার্কার সোলার প্রোব।

পার্কার সোলার প্রোবের গতিবেগ সর্বাধিক হবে ঘণ্টায় ৭ লক্ষ কিলোমিটার। যে গতিবেগে এত দিন ছোটেনি কোনও মহাকাশযানই। পৃথিবী আর শুক্র গ্রহের জোরালো অভিকর্ষ বলের টান এড়াতেই এ বার এত বেশি গতিবেগে ছোটাতে হচ্ছে পার্কার মহাকাশযানকে। পৃথিবীর ‘মায়া’ (অভিকর্ষ বলের টান) কাটিয়ে সূর্যের মুলুকে যাওয়ার জন্য পার্কার মহাকাশযান প্রথমে পৌঁছবে শুক্র গ্রহের ‘পাড়া’য়। শুক্রের কাছাকাছি গেলেই পার্কার মহাকাশযানকে তার নিজের দিকে টানতে চেষ্টা করবে শুক্র গ্রহ। সেই টানও কাটাতে হবে পার্কার মহাকাশযানকে। না হলে তা শুক্রের ‘পাড়া’ থেকে বেরিয়ে সূর্যের মুলুকের দিকে মহাকাশযান ‘পা’ বাড়াতে পারবে না। শুক্রের সেই টানকে অগ্রাহ্য করার জন্যেও চাই অসম্ভব গতিবেগ।

তা ছাড়াও, করোনার লক্ষ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার হাত থেকে মহাকাশযান বা তার যন্ত্রাংশগুলিকে বাঁচানোর কোনও প্রযুক্তিও ছিল না আমাদের হাতে। পার্কার সোলার প্রোবে থাকা ‘হিট শিল্ড’ সেই সমস্যা দূর করেছে।

মন্তব্য