ঝিনাইগাতীতে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল দুই কিশোরী

প্রজন্ম ডেস্ক

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় এক দিনে দুই কিশোরীর বিয়ে বন্ধ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৯ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের হতক্ষেপে বিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই দুই কিশোরী।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকালে উপজেলার ফাকরাবাদ গ্রামে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে হাছান মিয়া (২২) নামের এক যুবকের বিয়ের খবর পাস ইউএনও রুবেল মাহমুদ। পরে তিনি এ কিশোরীর বাড়িতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়নাল আবেদীন ও পুলিশ পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। এ সময় এ কিশোরীর বাবা সামিদুল হককে ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়নাল আবেদীন।

এ দিকে রাত আটটায় উপজেলার সালধা গ্রামে ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরীর সঙ্গে মো. হামিদুর রহমান (২২) নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে ইউএনও রুবেল মাহমুদ কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন এবং তার বাবা শহিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করেন। বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এ কিশোরী পাইকুড়া এআরপি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ। এর ফলে কিশোরীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যায়। অল্প বয়সে মা হওয়ার কারণে অনেক কিশোরী শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকিতে পড়ে। এসব কারণে বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুই কিশোরীর বিয়ে বন্ধ করেছেন। এ ছাড়া সাবালিকা হওয়ার আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে মেয়েদের অভিভাবকদের লিখিত অঙ্গীকারনামাও আদায় করেন তিনি।

মন্তব্য