‘কিছুই কি করার নেই’

প্রজন্ম ডেস্ক

‘খুলনা ওয়াসার পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। নিয়মিত পানির বিল নিলেও সরবরাহকৃত পানি দুর্গন্ধ, কাদা এবং ময়লায় পরিপূর্ণ। একাধিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়ছে না ওয়াসা কর্তৃপক্ষের। খুলনার সুধীসমাজের কাছে আমার প্রশ্ন—কিছুই কি করার নেই?’

ময়লাযুক্ত পানির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে এসব কথা লিখেছেন খুলনা ওয়াসার গ্রাহক অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ।

মাসুম বিল্লাহ আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে ওয়াসাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হবে। তাতেও কাজ না হলে পরবর্তীতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

একই সমস্যার সম্মুখীন হওয়া অন্য গ্রাহকরাও তার পোস্টে ওয়াসা সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আবু সাদাত আহমেদ রাজ পোস্টে মন্তব্য করেছেন, ‘বহু বার বলা সত্বেও কোনো কাজ হয় না, মাইরের বিকল্প নেই, ওয়াসার চেয়ারম্যানের বাড়ি গিয়ে ভালো পানি পেলে ধরে মাইর, নাহলে ওনাকে এনে ওই পানি দিয়ে গোসল করিয়ে সাদা শার্ট পরিয়ে বের করে দিতে হবে তখন বুঝবেন, তার আগে না।’

মোস্তফা আল মামুন প্রবালের মন্তব্য, ‘শরবত কর্মসূচির বিকল্প নাই।’

লিমন হোসাইন মন্তব্য করেছেন, ‘করার আছে অনেক কিছুই, সমস্যা আমাদের যারা সেবা গ্রহণ করি। আমরা সঠিক সময়ে সঠিক প্রতিবাদটুকু করি না। ওয়াসাতে সবাই মিলে প্রথমে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। তারপর ২ দিনের মধ্যে কাজ না হলে আদালতে মামলা করতে হবে  এবং পত্রিকায় কর্মকর্তার নামসহ প্রকাশ করতে হবে, যা পরে আদালতে কাজে আসবে এবং সর্বোপরি এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ঘেরাও করতে হবে। ২ নম্বরি জীবনে অনেক করেছে, এখন আর না।’

ঘোলা ও ময়লাযুক্ত পানি সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করে খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘১ জুলাই নগরীর বসুপাড়া এলাকায় বিটিসিএলের টেলিফোন লাইনে কাজ করতে গিয়ে ওয়াসার মূল লাইনের পাইপ ফাটিয়ে ফেলেছে। এ কারণে ওই স্পট থেকে পানিতে কাদামাটি প্রবেশ করেছে। এ কারণে তিন দিন ধরে ২/৩টি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার গ্রাহক ঘোলা পানি পেয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর নাগাদ পাইপটি মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার থেকে গ্রাহকরা পারিষ্কার পানি পাবেন বলে আশা করি।’

রাস্তা খোঁড়ার আগে বিটিসিএল ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াসা খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মধুমতি নদীর পানি পাইপ লাইনে এনে প্রক্রিয়াজাত করে নগরীর গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এ প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে নগরবাসীর।

মন্তব্য