ট্রেনে কোরবানির গরু পরিবহনে খরচ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা

প্রজন্ম ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু পরিবহনের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে শাক, সবজি, আমের পর এবার কোরবানির পশুও পরিবহনের উদ্যোগ নেয়া হলো। সেক্ষেত্রে প্রচলিত ভাড়ায় কোরবানির পশু পরিবহন করা হবে।

বিশেষ করে রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে কোরবানির পশু বেশি আসে। তবে কোন কোন স্থান থেকে বেশি পশু আসতে পারে, তা চিহ্নিত করে দেয়ার জন্য রেলমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরপর খামারি ও ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুসারে নির্দিষ্ট স্থান থেকে লাগেজ ভ্যানবাহী ট্রেন চলাচল করবে।

সবমিলিয়ে একটি গরু ঢাকা আনলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে খরচ পড়তে পারে। চট্টগ্রামে গেলে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লাগবে। সেক্ষেত্রে পাবনা থেকে ঢাকা এলে ভাড়া আরও কম লাগবে।

মঙ্গলবার (৭ জূলাঈ) রাজধানীর রেলভবনে এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রচলিত ভাড়ায় উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী কোরবানির পশু পরিবহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এক্ষেত্রে প্রাণী সম্পদ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য দিন তারিখ, রুট ও স্টেশন নির্ধারণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের চাহিদার ভিত্তিতে যেকোনো দিন থেকেই এ ট্রেন চালু করা হবে। গাইবান্ধা বা পাবনা ও কুষ্টিয়া থেকে চট্টগ্রামে প্রতি গরুর ভাড়া সর্বোচ্চ ২৫০০ এবং ঢাকায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা হতে পারে।

আগ্রহী ব্যবসায়ীদেরকে রেলওয়ের কন্ট্রোল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, মিটারগেজের একটি লাগেজ ভ্যানে ১৬টি গরু পরিবহন করা সম্ভব। ব্রডগেজে ২০–২১টি গরুর ওঠানো যাবে। এমন একটি মিটারগেজ ট্রেন গাইবান্ধা থেকে চট্টগ্রামে পর্যন্ত যেতে ৩৩–৩৪ হাজার টাকা ভাড়া পড়বে। পাবনা থেকে ঢাকা এলে ভাড়া আরও কম লাগবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ রেলওয়ে আম পরিবহনের সুবিাধার্থে ম্যাংগো স্পেশাল নামে ট্রেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে পরিচালনা করছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা সহজেই আম ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে খুবই অল্প ভাড়ায় পরিবহন করতে পারছেন। করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর গত ২৪ মার্চ সারা দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৩১ মে থেকে দেশে গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার পর যাত্রীবাহী ট্রেন সীমিত আকারে চালু হয়। তবে মালবাহী ট্রেন চালু ছিল। এরপর এপ্রিলে শাক, সবজি পরিবহনে লাগেজ ভ্যান চালু করা হয়।

মন্তব্য