দপ্তরির বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

দপ্তরির বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রজন্ম রিপোর্ট

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি প্রথম দিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও শিক্ষকদের মতবিরোধের কারণে তা প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের মীমাংসায় বসার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় মীমাংসা না হয়ে থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর বাবা শার্শা থানায় এ অভিযোগটি দিয়েছেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী ইকরামুল হক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও তাদের যৌন হেনস্তা করে আসছিলেন। গত ২৯ আগস্ট পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী বিদ্যালয়ের নিজস্ব কক্ষে প্রতিষ্ঠিত ‘সততা স্টোরে’ মিষ্টি কিনতে গেলে ইকরামুল তাকে জাপটে ধরেন। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। বাবা বাড়িতে না থাকায় বিষয়টি কোথাও অভিযোগ করেনি তারা।

এক পর্যায়ে ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে যায়। স্কুল পরিচালনা পর্ষদের কয়েক সদস্য ও শিক্ষকরা ইকরামুলকে ডেকে ওই ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে কিছু শিক্ষক বিরোধিতা করলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্যান্য ছাত্রীর অভিভাবকরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বিচার দাবি করেন।

তারা জানান, সততা স্টোরে মেয়েরা একাকী খাবার আনতে গেলে প্রায়ই ইকরামুল তাদের যৌন নির্যাতন করেন। লজ্জায় তারা এতদিন মুখ খোলেনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাবিনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি মীমাংসা করে দেবেন বলে দায়িত্ব নিয়েছেন। সে কারণে সভা হয়নি।’

স্কুল পরিচালনা পর্ষদের দুই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযোগ সত্য। দশজন অভিভাবক লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন। বুধবার বিচার হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ায় তারা চুপ চাপ আছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুজ্জামান বুলু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ইকরামুলের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীকে টানাটানির অভিযোগ আমাদের কানে আসলে তা নিয়ে আমরা স্কুলে বসে মীমাংসা করেছিলাম। কিন্তু শিক্ষকদের মতবিরোধের কারণে সেটি এখন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় চেয়ারম্যানের গোচরে আসলে তিনি সুষ্ঠু মীমাংসার দায়িত্ব নেন। কিন্তু মেয়ের বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করায় এখন আমাদের কিছুই করার নেই।’

গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুর রশীদ বলেন, ‘আমার কাছে এমন ধরনের একটি অভিযোগ এসেছে। আমি মেয়ের বাবাকে খবর দিয়েছিলাম। তার কাছে শুনে সত্যমিথ্যা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি আর আমাদের আওতায় নেই। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে শুনেছি।’

শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ আব্দুর রব বলেন, ‘ঘটনাটি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলককুমার মন্ডল বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। মেয়েটির বাবার সাথে কথা হয়েছে। তাকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান স্কুলছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগ বৃহস্পতিবার সকালে হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য