বাংলাদেশিদের ‘গিনিপিগ’ বললো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম

প্রজন্ম ডেস্ক

আবারও বাংলাদেশিদের সম্পর্কে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। চীনের করোনাভাইরাসের টিকার ট্রায়াল নিয়ে একটি প্রতিবেদেনে বাংলাদেশিদের ‘গিনিপিগ’ বলা হয়েছে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই অবমাননাকর শব্দ প্রয়োগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত মাসে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য চীন বিনা শুল্কে রপ্তানির সুযোগ দেয়। চীনের দেওয়া এমন সুবিধাকে গত ২১ জুন  আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘খয়রাতি’ উল্লেখ করে খবর প্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের পরিকল্পনা করছে চীন। এর জন্য বাংলাদেশের জনগণকে ‘গিনিপিগ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বেইজিং।

একই প্রতিবেদনে, চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপের করোনার টিকার তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে আমিরাতের ক্ষেত্রে ‘গিনিপিগ’ শব্দ ব্যবহার করেনি পত্রিকাটি।

পহেলা জুলাই পশ্চিমবঙ্গের অনলাইন সংবাদমাধ্যম নর্থ ইস্ট নাওতে  প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশকে এবার গিনিপিগ, ইঁদুর বানিয়ে ছাড়বে বেজিং!’ এতে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সফল হওয়ার জন্যে বাংলাদেশকে পরীক্ষাগার হিসেবে চাইছে চীন।

একই দিন পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের শিরোনাম ছিল ‘মানবদেহে করোনা টিকার পরীক্ষা, বাংলাদেশকে গিনিপিগ বানাতে চাইছে চিন!’ এতে বলা হয়, মুনাফার জন্য চীন এখন অরক্ষিত জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে চাইছে।

বিশ্বে করোনাভাইরাসের ১৮টি টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আস্ট্রাজেনেকার যৌথ গবেষেণার টিকা। এর পরেই আছে যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা। যুক্তরাজ্যে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় টিকার ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপ এখন ব্রাজিলে এবং পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় চালানোর ঘোষণা দিয়েছে আস্ট্রাজেনেকা। এই ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মানবতার সেবায় উৎসর্গকারী হিসেবে বিবেচেনা করেন এবং কেউই  ‘গিনিপিগ’ হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করে না এবং কোনো দেশই এ ধরনের অবমাননাকার শব্দ প্রয়োগ করে না।

২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হিউম্যান চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল ফর ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট : রেগুলেটারি কনসিডারেশন’ শিরোনামের একটি নির্দেশনায় বলেছিল- ‘এক বা একাধিক লক্ষ্যে একটি টিকা উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান মানুষের ওপর ট্রায়াল চালাতে পারে। …টিকার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সহায়তা করে এই ট্রায়াল।’

মন্তব্য