যশোরের লোন অফিস পাড়ায় কিশোরী ধর্ষন : ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষক সাকিলের দৌড়ঝাপ!

যশোরের লোন অফিস পাড়ায় কিশোরী ধর্ষন ঃ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষক সাকিলের দৌড়ঝাপ!

বিশেষ প্রতিনিধি

যশোর শহরের বারান্দী লোন অফিস পাড়ায় নিকট আত্মীয়কে ধর্ষণ ও অন্তঃস্বত্বার ঘটনাটি ৭ লাখ টাকায় রফা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় তুমুল হৈ-চৈ শুরু হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর রাজের নাম ভাঙিয়ে শালিসী বৈঠকের নামে কাল ক্ষেপন করে ভূক্তভোগী পরিবারের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ধর্ষক এবিএম সাকিল ওরফে মেটলাইফ সাকিলকে এলাকাবাসী ইতিমধ্যে একঘরে করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। যদিও অভিযুক্ত সাকিল উল্টো অসহায় মেয়েটিকেই বিতর্কিত বলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন।

অভিযোগে জানা যায়, এবিএম সাকিলের বাড়ি শহরের মোল্লাপাড়া আমতলা ও লোন অফিস পাড়ায়। তার পিতার নাম সুবিদ আলী তিনি মেটলাইফ ইন্সুরেন্সে কাজ করেছেন। এছাড়া, তিনি ভিশন টিভি-ফ্রিজের ডিলার হাউজে চাকুরি করেন। সম্প্রতি সে তার রক্তের সম্পর্কের এক আত্মীয়ের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তার মেয়েকে (সম্পর্কে ভাইজি) আশ্রয় দেন সাকিল নিজের বাড়িতে। আর আশ্রয় দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যে তার লালসার নজরে পড়ে ওই যুবতী। এরপর ওই যুবতীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্নভাবে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবিএম সাকিল। পরে চলতেই থাকে তার লালসা। এক পর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে।

এরপর তাকে কাঠেরপুল এলাকার এলএমএএফ ডাক্তার নাসিরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। খাওয়ানো হয় এ্যাব্রসনের বিভন্ন প্রকার ওষুধ। এতে বাচ্চা নষ্ট হবার পর মেয়েটি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে কিছুদিন মেয়েটিকে বাড়িতে বন্দী করে রাখে সাকিল। পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হলে ফের তাকে সাকিলের লালসার শিকার হতে হয়। লম্পট সাকিল রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় হবার কারণে মেয়েটি এ ঘটনা তার নিজের মা-বাবাকে জানাতে দ্বিধা করে। একপর্যায়ে সে আবারও অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে। এসময় তাকে যশোর জেনোসিস হসপিটালে আল্টাসনোগ্রাফিও করানো হয়।

ঘটনাটি নিয়ে মেয়েটি সাহস করে মুখ খুললে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। আর শাকিল শুরু করে দৌঁড়ঝাঁপ। তিনি লজ্জাজনক এ ঘটনাটি চাপা দেবার জন্য বড় মাপের বাজেট নিয়ে মাঠে নামে। জেলে থাকা অত্র এলাকার কাউন্সিলর রাজের নাম ভাঙিয়ে চলানো হচ্ছে ধাপাচাপা দেবার চেষ্টা। এ ঘটনা মিমাংসার নামে মেয়েটির পরিবারকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে সময় পার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে কাউন্সিলর রাজ কারাগার থেকে বের হবার পরই এ বিষয়ে শালিশী বৈঠক ডাকা হবে। আর এ সুযোগে স্থানীয় একটি চক্র ৭ লাখ টাকায় ঘটনাটি রফা করার দায়িত্ব নিয়েছে। ওই চক্রকে সাকিল ইতিমধ্যে ২ লাখ টাকা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ বলে প্রচারও করছে।
এ সুযোগে কতিপয় সমাজকর্মী তার সাথে সাক্ষাৎ করে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক হাজার টাকা। তবে মেয়েটি সাকিলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাওয়ায় তিনি অনেকটা গা ঢাকা দিয়ে শহরে চলাচল করছে।

সূত্র জানায়, রক্তের সম্পর্কের নিকট আত্মীয়কে ভোগ্যপন্য বানিয়ে লালসার শিকার করা এবিএম সাকিল চলেন ঠাঁটে-বাটে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিলে বেরিয়ে এসেছে ওই যুবতী ও তার পরিবারের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তাকে আশ্রয় দেয়ার নামে তার ওপর চালানো হয় পৈশাচিকতা। বিষয়টি অন্তঃসত্বা ও এ্যাব্রসন পর্যায়ে চলে যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে এখন চলছে তুমুল হৈ-চৈ।
ভূক্তভোগী মেয়েটি জানায়, এবিএম সাকিল তার পিতৃ সমতূল্য, কোন তিনি নরপিচাশ। জানোয়ার ছাড়া এমন কাজ আর কেউ করতে পারে না। তার কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন করছি।

এলাকাবাসীও লম্পট শাকিলের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে। তার বিরুদ্ধে এমন আরো অনেক অভিযোগ আগেও আছে বলে এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়। ন্যাক্কারজনক এ জাতীয় ঘটনার তারা আর পূনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। এবিষয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এবিএম শাকিলের ০১৭১১-৯৭২৮৭৯ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই যুবতী তার মেয়ের মতোই। কিন্তু তার চরিত্র ভাল না। তার বাড়ির ভাড়াটিয়াসহ আরও অনেকের সাখে তার খারাপ সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি তার সুনাম নষ্ট করতে এসকল মিথ্যাচার করছে। অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য চক্রান্ত করে এসব রটনা করা হচ্ছে। মেয়েটি অন্তঃসত্বা হয়েছিল সত্য, তবে এ ঘটনার সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য