রক্তে উচ্চ শর্করার ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

প্রজন্ম ডেস্ক

কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকে চিকিৎসকরা বলে আসছেন যে, সংক্রমণটিতে ডায়াবেটিস রোগীদের মারাত্মক পরিণতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। ডায়াবেটিস রোগীদের শরীর রক্ত শর্করা সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। দীর্ঘসময় রক্তে উচ্চ মাত্রার শর্করার উপস্থিতিতে মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিছুদিন আগে গবেষকরা জানান যে, ডায়াবেটিস না থাকলেও রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ করতে পারে।

এ কারণে এই মহামারিতে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেসব খাবার খেতে হবে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, পাশাপাশি সেসব খাবার বাদ দিতে হবে যা শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এখানে রক্তে দ্রুত শর্করা বাড়ানোর ঝুঁকি সৃষ্টি করে এমনকিছু খাবার সম্পর্কে বলা হলো।

সাদা ভাত: টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের সাদা ভাত এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়। কারণ সাদা ভাতে আঁশ খুব কম থাকে বলে রক্ত শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। খাবারের আঁশ রক্ত শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। সাদা ভাতের চেয়ে বাদামী ভাতে আঁশ বেশি থাকে। তাই ভাত খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে না পারলে বাদামী চালই কিনুন, কিন্তু বেশি খাবেন না।

সাদা পাউরুটি: অনেকের সকালের খাদ্যতালিকায় প্রায়সময় সাদা পাউরুটি থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা পাউরুটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। সমস্যা হলো, আমাদের শরীর পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট দিয়ে তৈরি খাবার দ্রুত হজম করে ফেলে, যেমন- সাদা পাউরুটি, পাস্তা ও সুইট ডেজার্ট। খাবার দ্রুত হজম হলে রক্ত শর্করার মাত্রাও দ্রুত বেড়ে যায়। গবেষণায় পাওয়া গেছে, যারা গোটা শস্য খান ও পরিশোধিত শস্য এড়িয়ে চলেন তাদের হৃদরোগ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম।

মিষ্টি পানীয়: রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে কোমল পানীয় ও অন্যান্য চিনি মিশ্রিত পানীয় পরিহার করতে হবে। ডায়াবেটিস কেয়ারে প্রকাশিত একটি অ্যানালাইসিসে গবেষকরা দেখেছেন, যারা দিনে এক বা দুই গ্লাস চিনিযুক্ত পানীয় পান করেছেন তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সেসব মানুষের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি ছিল যারা মাসে এক গ্লাসের কম পান করেছেন। এনার্জি ড্রিংকস বা কোমল পানীয় বা চিনি মেশানো পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানি বা লেবু পানি পান করুন, এতে ওজনও কমবে।

লাল মাংস: গবেষণায় দেখা গেছে, লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে বলে রক্ত শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন ইনসুলিনের মাত্রাও বাড়াতে পারে। দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত গবেষণা রিভিউ অনুসারে, যারা প্রতিদিন/নিয়মিত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খেতেন তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বেশি ছিল। স্বাস্থ্যকর প্রোটিন পেতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ মাংসের পরিবর্তে বাদাম বা কম চর্বির দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন।

ফাস্ট ফুড: ফাস্ট ফুডকে প্রলুব্ধকর খাবার বললেও ভুল হবে না, বিশেষ করে ক্ষুধার্ত ও তাড়া অবস্থায়। কিন্তু ফাস্ট ফুডে উচ্চ পরিমাণে ফ্যাট, ক্যালরি ও লবণ থাকে বলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লবণাক্ত ফাস্ট ফুড রক্তচাপও বাড়াতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

প্যাকেটের খাবার: গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাকেটের প্রক্রিয়াজাত খাবারও দ্রুত রক্ত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। চিকিৎসকেরা ডায়াবেটিস রোগীদেরকে প্যাকেটের খাবার বর্জন করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলেও এসব খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। এছাড়া প্যাকেটের খাবারে যে ট্রান্স ফ্যাট থাকে তা উপকারী কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়, অপকারী কোলেস্টেরল বাড়িয়ে তোলে ও প্রদাহ সৃষ্টি করে।

সম্পূর্ণ চর্বির দুধ: শুধু লাল মাংস ও মাখনে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে তা নয়, যে দুধ থেকে কোনো উপাদানই সরানো হয়নি (হোল মিল্ক) সেখানেও প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। হোল মিল্ক খেলে রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে না ও হৃদরোগের ঝুঁকি উর্ধ্বমুখী হয়। ক্যালসিয়ামের উপকারিতা পেতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চর্বিমুক্ত অথবা ১ শতাংশ চর্বির দুধ খেতে পারেন।

কফি: ক্যাফেইন থাকার কারণে কফি পানের পর রক্ত শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। এছাড়া কফিতে সংযোজিত সুইটেনার, ক্রিমার ও অন্যান্য ফ্লেভার চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। চিনির পরিমাণ বাড়লে রক্ত শর্করা যে দ্রুত বাড়বে তা সহজে অনুমানের বিষয়। ব্ল্যাক টি বা গ্রিন টি এর বেলায়ও একথা প্রযোজ্য। তবে এটা সত্য যে কফির প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস রয়েছে তারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে অবশ্যই কফি পান সীমিত করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় বর্জন করলে।

মন্তব্য