উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক শক্তি বাড়াল ভারত

প্রজন্ম ডেস্ক

ফ্রান্স থেকে কেনা অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান যুক্ত হলো ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে। চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই আগামীকাল বুধবার (২৯ জুলাই) প্রথম চালানে পাঁচটি রাফাল ভারতের হরিয়ানার আম্বালায় পৌঁছানোর কথা। অন্যদিকে, চীনের তৈরি আরও ৪৭টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। গত মাসে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ৫৯টি জনপ্রিয় চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল নয়াদিল্লি।

ফ্রান্স থেকে ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও। রাফাল ইস্যু উঠেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্স থেকে আগামীকাল ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমানের। মোট ৩৬টির মধ্যে বাকিগুলো ধাপে ধাপে পৌঁছবে ভারতে। ২০১৬ সালে ফ্রান্স সফরে গিয়ে প্রথম রাফাল চুক্তির ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৫৯ হাজার কোটি রুপিতে ফ্রান্সের যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দাসো এভিয়েশনের কাছ থেকে ৩৬টি রাফাল কেনার চুক্তি হয়। সেই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে কংগ্রেসসহ ভারতের বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, অনেক বেশি দামে এই চুক্তি করেছে মোদি সরকার।

এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল কংগ্রেস। দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেন, রাফাল চুক্তিতে কোনো অসংগতি নেই। বিতর্কের মধ্যেই চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা রাফাল আনার পথ পরিস্কার করে দেয় মোদি সরকারের জন্য। আগেই ফ্রান্সে গিয়ে রাফাল ওড়ানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর ১২ জন পাইলট ও ইঞ্জিনিয়ার। তারাই ওই বিমানগুলো ভারতে উড়িয়ে আনছেন। তবে মাঝপথে জ্বালানি ভরার জন্য রাফালগুলো মঙ্গলবার নামবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ফরাসি বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে। পরদিন সেগুলো পৌঁছাবে ভারতে। দেশটির বিমানবাহিনী এরই মধ্যে রাফালের জন্য পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত বেশ কিছু পরিবর্তনও এনেছে। এ জন্য প্রায় চারশ’ কোটি রুপি খরচ করা হয়েছে।

মন্তব্য