মালয়েশিয়ায় ১০ গুণ বেশি ছোঁয়াচে প্রজাতির নতুন করোনা শনাক্ত

প্রজন্ম ডেস্ক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের একটি নতুন প্রজাতি শনাক্ত করেছে মালয়েশিয়া, যা সাধারণ করোনাভাইরাসের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছোঁয়াচে। রূপান্তরিত এই প্রজাতিটি ‘ডি৬১৪জি’ নামে পরিচিত। মালয়েশিয়ায় একটি ক্লাস্টারে সংক্রমিত ৪৫ জনের মধ্যে অন্তত তিনজনের শরীরে রূপান্তরিত ভাইরাসটি দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে সোয়া ২ কোটিরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষের।

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের নতুন একটি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন তারা, যা নাকি আক্ষরিক অর্থেই ‘সুপার স্প্রেডার’। করোনার চেয়ে ১০ গুণ ছোঁয়াচে এ প্রজাতির ভাইরাস। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য স্ট্রেইট ট্রাইমসের। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজি জেনারেল নুর হিশাম আবদুল্লা শনিবার তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সদ্য খোঁজ মেলা ‘ডি৬১৪জি’ নামের এই নতুন প্রজাতির ভাইরাসটি ১০ গুণ বেশি ছোঁয়াচে। শুধু মালয়েশিয়া নয়, ইউরোপ-আমেরিকাতেও নতুন এই প্রজাতির অস্তিত্ব মিলেছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। যার অর্থ, করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে এত দিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রায় বিফলে যাওয়ার জো হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আবদুল্লা।

তার দাবি, সম্ভাবনাময় সব ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেটই এই নয়া প্রজাতির করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অক্ষম প্রমাণিত হতে পারে। যদিও মালয়েশিয়ার এই দাবি ঘিরে এখনই তেমন আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। তাদের দাবি, এই প্রজাতিটি যে অনেক গুণ বেশি সংক্রামক, এখনও পর্যন্ত তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। সেল প্রেস নামের একটি বায়োমেডিক্যাল জার্নালেও লেখা হয়েছে, করোনাভাইরাসের এই নতুন মিউটেশন সম্ভাব্য প্রতিষেধকের কার্যকারিতায় কোনো রকম প্রভাব না-ও ফেলতে পারে।

তবু আশঙ্কা থাকছেই। মালয়েশিয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, অন্তত দু’টি ক্লাস্টারে ‘ডি৬১৪জি’ সংক্রমণের তিনটি ঘটনা পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে সম্প্রতি ভারত থেকে ফিরে আসা এক মালয়েশিয় রেস্তোরাঁ মালিকও রয়েছেন। ফিলিপিন ফেরত দুজনও এই নয়া প্রজাতির ভাইরাসে সংক্রমিত বলে দাবি তাদের। তাই হু আশ্বস্ত করতে চাইলেও নয়া বিপদের গন্ধ পাচ্ছে ভারতসহ বেশ কিছু দেশ। মালয়েশীয় প্রশাসন দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছে, এই ভাইরাসের পরিবর্তিত প্রজাতির সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আরও সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য