মায়ের মৃতদেহ বাথরুমে, ভাইয়েরটা রান্নাঘরে; সন্দেহের তীর আগন্তুকের দিকে

প্রজন্ম ডেস্ক

সকালে মা-ভাইকে রেখে গার্মেন্টসে গিয়েছিলেন গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ুরী। রাত ৮টার দিকে গার্মেন্টস থেকে ফিরে মা-ভাইয়ের কোনো সাড়া শব্দ পাচ্ছিলেন না ময়ুরী। পরে মাকে বাথরুমে ও ভাইকে বাথরুমের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। ময়ুরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে নগরের চান্দগাঁও থানাধীন পুরাতন চান্দগাঁও রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে মা ও ছেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই বাসার নিয়মিত এক আগন্তুককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে জোড়া খুনের শিকার গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ুরী তাদের বাসায় নিয়মিত আসা যাওয়া করা ফারুকের নাম ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁন্দগাও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতরা হলেন- গুলনাহার বেগম (৩৩) ও ছেলে মোহাম্মদ রিফাত (৯)।

জানা গেছে, গুলনাহারের মেয়ে ময়ূরী পোশাককারখানায় চাকরি করেন। রাতে কারখানা থেকে ফিরে ময়ূরী তার মায়ের মৃতদেহ বাথরুমে এবং রিফাতের মৃতদেহ রান্নাঘরে দেখতে পায়। এসময় তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়। তাদের বাসায় ফারুক নামে এক যুবক তার মাকে বোন ডেকে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, গুলনাহারের স্বামী আরেকজনকে বিয়ে করেছে। তার সঙ্গে থাকে না। গুলনাহার বাসায় ও হোটেলে রান্নার কাজ করে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। ছেলে রিফাতের গলায় কাটা দাগ আছে। ভোতা কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

প্রতিবেশীরা জানান, গুলনাহারের স্বামী আরেক বিয়ে করে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে থাকেন। এই সংসারে তার এক মেয়ে দুই ছেলে ছিল। এক ছেলেকে তার বাবা সাথে নিয়ে গেলে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মেয়ে আজিম গ্রুপের পোশাককারখানায় চাকরি পাওয়ার পর তিনি ঘরে নাস্তা বানাতেন। পাতানো ভাই ফারুক তা বিক্রি করতো। তবে তাদের ঝগড়া ছিল নিত্যসঙ্গী।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এসএম মোস্তাক আহমেদ খান বলেন, আমরা এ পর্যন্ত যেসব তথ্য উপাত্ত পেয়েছি, সবগুলোকে বিবেচনায় সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। আশা করছি খুনিকে দ্রুত সময়ে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।

এদিকে সোমবার রাতে জোড়া খুনের শিকার গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ুরী পেয়িং তাদের বাসার নিত্য আগন্তুক ফারুকের নাম ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁন্দগাও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারে ময়ুরী উল্লেখ করেন, তার মা গুলনাহার বেগমকে (৩৩) ধর্মের বোন ডেকেছেন ফারুক। ফারুক দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাসায় আসা-যাওয়া করে।

গত কিছুদিন ধরে মায়ের সাথে ফারুকের বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায় ঝগড়া হতো তার মায়ের সঙ্গে। সম্ভবত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে মাকে ফারুক খুন করেছেন। যার আক্রোশের শিকার শিকার হয়েছেন ৯ বছরের ভাই রিফাতও।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, মামলাটি আমলে নেয়া হয়েছে এবং ফারুকের সম্ভাব্য ঠিকায় গিয়ে তাকে খুঁজা হয়েছে। তবে সে বর্তমানে লাপাত্তা রয়েছেন। তাকে প্রযুক্তিসহ বিভিন্নভাবে খুঁজা হচ্ছে। আশা করি দ্রুতই সে ধরা পড়বেন।

মন্তব্য