সমঝোতা না হলে সব আসনে প্রার্থী দেবে জাপা

প্রজন্ম ডেস্ক

জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা চায় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে উপনির্বাচন নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে আওয়ামী লীগকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে সাড়া না পেলেও সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদী দলটির শীর্ষ নেতারা।

জাতীয় পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচটি আসনের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৮ আসনটি নিয়েই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে দেন-দরবার করতে চায় জাতীয় পার্টি। সেক্ষেত্রে দলটির পক্ষ থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেড়ে দেওয়া ঢাকা-১৭ আসনের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন ৫৬ জন, এই বিষয়টিকেও কাজে লাগাতে চায় জাতীয় পার্টি।

 মহাজোটের স্বার্থেই দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ঢাকা-১৭ আসন ছেড়ে দেয়েছিলেন। এখন আওয়ামী লীগের উচিত আসনটি আমাদের ছেড়ে দেওয়া। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর এই আসনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের শক্তিশালী তেমন কোনো জনপ্রিয় নেতা নেই 

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, নবম সংসদে মহাজোটের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে ঢাকা-১ ও ঢাকা-১৭ এই দু’টি আসন দেওয়া হয়েছিল। দশম সংসদে মহাজোটের স্বার্থে দলের চেয়ারম্যান ঢাকা-১৭ আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। ওই সংসদে ঢাকা-১, ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৬ এই তিনটি আসন জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৬ এই দু’টি আসন দেওয়া হলেও ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় জাতীয় পার্টির কোনো সংসদ সদস্য নেই। পাশাপাশি ঢাকায় আসন কমানো হয় জাতীয় পার্টির।

জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা জানান, সমঝোতা না হলে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। সমঝোতা হলে অন্যান্য আসনে প্রার্থী দেওয়া থেকে জাতীয় পার্টি বিরত থাকতে পারে। সমঝোতা না হলে প্রতিটি আসনেই জাতীয় পার্টি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে। সেক্ষেত্রে দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জোর দাবি জানানো হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের কোনো আসনে সমঝোতা হয়নি। ঢাকার দুই আসনের উপনির্বাচন তো অনেক দেরি আছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে তখন এ বিষয়ে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একজন কো-চেয়ারম্যান বলেন, যে আসনে উপনির্বাচন হবে, তার প্রত্যেকটিতে আওয়ামী লীগের এমপি ছিল। ফলে আওয়ামী লীগ আমাদেরকে (জাপাকে) কোনো আসন ছেড়ে দেবে বলে মনে হয় না। তবে, এই ক্ষেত্রে নির্বাচন যদি সুষ্ঠু করার কোনো পরিকল্পনা থাকে আর যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে হয়তো আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ঢাকার একটি আসন ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় পার্টির আরেক কো-চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-১৮ আসন পেতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাকে প্রার্থী করা যায়, তা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিমত নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতী বলেন, মহাজোটের স্বার্থেই দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ঢাকা-১৭ আসন ছেড়ে দেয়েছিলেন। জোটের স্বার্থেই এখন আওয়ামী লীগের উচিত আসনটি আমাদের ছেড়ে দেওয়া। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর এই আসনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের শক্তিশালী তেমন কোনো জনপ্রিয় নেতা নেই।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (ঢাকা-১৮), সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলু (পাবনা-৪), শ্রমিক নেতা ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) ও হাবিবুর রহমান মোল্লার (ঢাকা-৫) মৃত্যুতে আসনগুলো শূন্য হয়।

মন্তব্য